সল্যুশন

ব্রণ প্রতিরোধের উপায় – স্বাস্থ্যকর ত্বকের জন্য করণীয়।

ব্রণ প্রতিরোধের উপায়

কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক , প্রায় সব বয়সের মানুষই ব্রনের সমস্যায় ভুগে থাকেন। মুখমণ্ডল, ঘাড়, পিঠ ও বুকসহ শরীরের যেকোনো জায়গায়ই এটি হয়। ব্রণ ব্যক্তির বাহ্যিক সৌন্দর্যকে ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি, আত্মবিশ্বাস ও মানসিক স্বাস্থ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিভিন্ন কারণে ত্বকে ব্রনের সমস্যা হয় যেমন- অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ত্বকে অতিরিক্ত সেবাম উৎপাদন, দূষিত পরিবেশ, ভুলভাবে স্কিন কেয়ার করা, ভুল প্রডাক্ট ব্যবহার ও হরমোনের পরিবর্তনের কারণে ব্রণ দেখা দেয়।

ব্রণ প্রতিরোধের উপায় –

acne

আমাদের ত্বকের লোমকূপের গোড়ায় সেবাসিয়াস গ্লান্ড নামক গ্ৰন্থি রয়েছে। যেখান থেকে সেবাম নামক তেল নিঃসৃত হয় যা ত্বককে মসৃণ ও হাইড্রেটেড রাখে। তবে এই তেল যখন বেশি মাত্রায় নিঃসৃত হয় তখন এগুলো ত্বকের পোরসে আটকে পোরস ক্লগ করে ফেলে। সাথে আরো যোগ হয় মৃত কোষ,ময়লা ও ব্যাকটেরিয়া।‌ আর তখনই সৃষ্টি হয় ব্রণের। ব্রণের সমস্যা চিরতরে সমাধান‌ করা যায় না,তবে কিছু সহজ অভ্যাস নিয়মিত মেনে চললে এই সমস্যাকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।নিয়মিত ত্বকের যত্ন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও সঠিক পন্য ব্যবহার ব্রণ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। চলুন আজকের ফিচারে ব্রণ বা অ্যাকনে প্রতিরোধে করণীয় বিষয় সম্পর্কে জেনে নেই।

নিয়মিত ত্বকের যত্ন নেওয়া:

উৎশৃঙ্খল,অলস জীবন যাপন শরীর, স্বাস্থ্য ও ত্বক সবকিছুতেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। নিয়মিত ত্বকের যত্ন না নিলে, ত্বকে ময়লা ও দূষন জমে পোরস ক্লগ হয়ে স্কিনের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। তাই রেগুলার স্কিনের প্রপার যত্ন নিতে হবে। এক্ষেত্রে ফেসওয়াশ, সিরাম ,টোনার, ময়েশ্চারাইজার, সানস্ক্রিন ও নাইট ক্রিম ইত্যাদি স্কিন কেয়ার রুটিনে রাখতে হবে। সকাল,রাত দৈনিক দুইবার সঠিকভাবে ত্বকের যত্ন নিতে হবে।
সকালে-

  • ফেসওয়াশ – সিরাম- টোনার- ময়েশ্চারাইজার – সানস্ক্রিন , সকাল বেলায় এই প্যাটার্নে স্কিন কেয়ার করুন।
    রাতে-
  • ফেসওয়াশ – সিরাম- টোনার- নাইট ক্রিম, রাতের বেলায় এই প্যাটার্নে স্কিন কেয়ার করে ঘুমিয়ে পড়ুন।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস:

সুস্থ ও সতেজ থাকতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের বিকল্প নেই। আমরা রেগুলার যা খাই, তার সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের শরীর ও স্বাস্থ্যের ওপর। সঠিক খাদ্যাভ্যাস শুধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় না এটি শরীরে সার্বিক শক্তি যোগায় পাশাপাশি ত্বক ও চুলেও রয়েছে ব্যাপক প্রভাব। আপনার ত্বক যদি ব্রনপ্রবন হয় তাহলে, আপনাকে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে, প্রতিদিন অন্তত ৮ গ্লাস পরিমাণ। এছাড়াও সবুজ শাকসবজি, ভিটামিন (এ, সি, ই ) সমৃদ্ধ ফলমূল, ওমেগা–৩ ও ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার (মাছ, বাদাম, চিয়া সিডস) ও হোলগ্রেইন ও ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার রেগুলার খাবার ডায়েটে রাখতে হবে। আর অতিরিক্ত চিনি ও জাঙ্ক ফুড (চকোলেট, কোল্ড ড্রিঙ্কস, ফাস্টফুড), দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার ,ভাজাপোড়া ও অয়েলি খাবার বেশি পরিমাণে খেলে ব্রণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে তাই এগুলো এরিয়ে চলতে হবে।

ব্রন প্রবন ত্বকে কোন ধরনের পন্য ব্যবহার করবেন:

ব্রণপ্রবণ ত্বক খুবই সংবেদনশীল প্রকৃতির হয়। তাই সামান্য ভুল করলেই ত্বকে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এই ধরনের ত্বকের যত্নে সঠিক পণ্য বেছে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্রণ কমানো, অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ, পোরস পরিষ্কার রাখা এবং ত্বকের সার্বিক স্বাস্থ্যের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য বিশেষ কিছু উপাদানসমৃদ্ধ পণ্য ত্বকে ব্যবহার করলে ব্রনের সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। তাই ব্রণ প্রবন ত্বকের যত্নে ব্যবহৃত পণ্য ক্রয় করার সময় কিছু বিষয় মাথায় রেখে পণ্য ক্রয় করতে হবে।

  • পন্যের উপাদান
  • পন্যের টেক্সচার।

ফেসওয়াশ:

ফেসওয়াশ কেনার সময় জেল বা ফোমি টেক্সচারের ফেসওয়াশ চয়েস করূন। পন্যের লেবেলে উপাদান দেখুন যেমন – Salicylic Acid, Tea Tree Oil, Benzoyl Peroxide ইত্যাদি আছে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হন।‌ কারন এগুলো ত্বকের অতিরিক্ত তেল ও মৃতকোষ পরিষ্কার করে ব্রণ কমাতে সাহায্য করে।

সিরাম:

সিরাম ত্বককে ভেতর থেকে পুষ্টি যোগায়, ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে, দাগ হালকা করে এবং ত্বককে রাখে সতেজ ও স্বাস্থ্যকর। ব্রণ ও ব্রণের দাগ কমানোর জন্য সিরাম খুবই কার্যকর। নায়াসিনামাইড,অ্যাজেইলিক অ্যাসিড , ভিটামিন সি ও রেটিনল যুক্ত সিরাম ব্রনপ্রবন ত্বকের যত্নে ব্যবহার করূন। এগুলো ত্বকের তেল নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে , ব্রনের দাগ কমায়‌ ও ত্বককে উজ্জ্বল করে। তবে রেটিনলযুক্ত‌ সিরাম দিনের বেলায় ব্যবহার করতে যাবেন না যেন। কারন এটি সূর্যের সংস্পর্শে এলে ত্বকের বিভিন্ন ড্যামেজ হতে পারে।

টোনার:

টোনার ত্বককে সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখতে সাহায্য করে। ব্রনপ্রবন ত্বকের যত্নে অ্যালকোহল-ফ্রি – নায়াসিনামাইড ,গ্ৰিন টি‌ ও উইচ হাজেল সমৃদ্ধ টোনার ব্যবহার করূন।

ময়েশ্চারাইজার:

শুষ্ক ত্বকের মত তৈলাক্ত ত্বকও আর্দ্রতা হারিয়ে শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তখন ত্বক আরও বেশি তেল উৎপাদন শুরু করে ফলে পোরস ক্লগ হয়ে ব্রণের সমস্যা বেড়ে যায়। তাই অয়েলি বা ব্রন‌প্রবন ত্বকের যত্নে হালকা টেক্সচারের, অয়েল-ফ্রি ও নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে মশ্চারাইজারের উপাদান লেবেলে – হায়ালুরনিক এসিড, অ্যালোভেরা, নায়াসিনামাইড‌ ও সেরামাইড আছে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হন। কারন ব্রণ প্রবণ ত্বকের যত্নে সঠিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বকের ভারসাম্য বজায় থাকে, পোরস ক্লগ হয় না এবং ত্বক থাকে মসৃণ ও স্বাস্থ্যকর।

এইতো জেনে নিলাম, ব্রণ বা অ্যাকনে প্রতিরোধে করণীয় বিষয় সম্পর্কে। ত্বক পরিষ্কার রাখা, সঠিক প্রসাধনী ব্যবহার, সুষম খাবার গ্রহণ করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ কমানো সুস্থ, সুন্দর ত্বকের জন্য সমান জরুরি। মনে রাখতে হবে, ব্রণ একদিনে দূর হয় না , ধৈর্য ধরে নিয়মিত যত্ন নিলেই ত্বক হবে স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *