ত্বক উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যকর রাখে যেসব খাবার |
‘আমরা যা খাই’ তার প্রভাব আমাদের শরীর, স্বাস্থ্য ও ত্বকের উপর প্রতিফলিত হয়। এজন্য গুরুজনেরা বলেন, পুষ্টিকর খাবার খেয়ে সুস্থ থাকো। ত্বককে সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর রাখতে আমরা নিয়মিত অনেক ধরনের স্কিনকেয়ার প্রডাক্ট ব্যবহার করি , এতে ত্বক সাময়িক ভাবে সুন্দর হলেও খুব বেশি লাস্টিং করে না।
শরীর ভেতর থেকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পুষ্টি পেলে তার প্রভাব ত্বকের উপরও পড়বে। কারন, উজ্জ্বল, দাগহীন , স্বাস্থ্যকর ত্বক শুধু বাহ্যিক যত্নেই আসে না, এটি আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসের উপরও অনেকাংশে নির্ভর করে।
তাই সঠিক খাদ্য নির্বাচন করে গ্ৰহন করলে, এটি ত্বককে শুধু উজ্জ্বলই করে না বরং ব্রণ, কালচে দাগ, শুষ্কতা ও অকাল বার্ধক্য প্রতিরোধ করতেও সাহায্য করে। আজকের ফিচারে আমরা জানব, কোন খাবারগুলো নিয়মিত খেলে ত্বক ভেতর থেকে পুষ্টি পায় ,উজ্জ্বল হয় ও স্বাস্থ্যকর থাকে।
ত্বক:
ত্বক হলো শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জন্য প্রতিরক্ষামূলক আবরণ, যা বাহ্যিক স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যের প্রতিফলন ঘটায়। এটি আমাদের পুরো দেহকে ঢেকে রাখে এবং বাইরের পরিবেশ থেকে সুরক্ষা দেয়। সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর ত্বক ব্যক্তির সৌন্দর্য ও আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। অনেকের ত্বক জেনেটিক্যালি সুন্দর হয়।
আবার অনেকের ত্বক প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতিতে ভারসাম্য হারিয়ে শুষ্কতা, প্রদাহ এবং অকাল বার্ধক্যের মত সমস্যায় ভুগছে। তাই বাহ্যিক পরিচর্যার পাশাপাশি ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি যুক্ত খাবার গ্রহণ করে ,ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হবে।
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল/ শাকসবজি:
ত্বকের যত্নে ভিটামিন সি খুবই জরুরি পুষ্টি উপাদান। এটি ত্বকে কোলাজেন তৈরি করে ও ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর UV রশ্নির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়।। ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা যেমন- দাগ-ছোপ হালকা করে, ত্বক টানটান রাখে এবং প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল যেমন – কমলা, মাল্টা, লেবু, পেয়ারা, কিউই, স্ট্রবেরি, পেঁপে, ডালিম, আমড়া ও আনারস ও শাকসবজি যেমন- ব্রকোলি, বাঁধাকপি, কালাই শাক,পালং শাক,লাল শাক, সবুজ মরিচ, টমেটো, লাল ক্যাপসিকাম ও সবুজ ক্যাপসিকাম ইত্যাদি খাবার রেগুলার খাদ্য তালিকায় রাখলে শরীরে ভিটামিন সি এর ঘাটতি পূরণ হবে ও ত্বক স্বাস্থ্যকর ও উজ্জ্বল থাকবে।
ভিটামিন এ ও বিটা ক্যারোটিন সমৃদ্ধ খাবার:
ত্বককে সুন্দর, মসৃণ ও স্বাস্থ্যকর রাখতে ভিটামিন এ এবং বিটা-ক্যারোটিন সমৃদ্ধ খাবার খুবই প্রয়োজনীয়। এগুলো ত্বকের নতুন কোষ তৈরি করে, ত্বক টানটান ও মসৃণ রাখে, ব্রণ ও দাগ-ছোপ কমায়, অকাল বার্ধক্যের ছাপ কমিয়ে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা আনে, ত্বকে হাইড্রেশন প্রোভাইড করে ও শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে ভেতর থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখে। ভিটামিন এ সরাসরি প্রাণিজ উপাদান যেমন- ডিমের কুসুম, গরু/মুরগির কলিজা, দুধ , মাছের তেল,চিজ ও দুগ্ধজাত খাবার দই, ঘি, মাখন ইত্যাদিতে পাওয়া যায়।
আর বিটা ক্যারোটিন উদ্ভিদ উৎস যেমন- গাজর , লাল ও হলুদ কুমড়া,মিষ্টি আলু ,আম , পেঁপে,তরমুজ, খরমুজ ,লাল শাক, পালং শাক, ব্রকোলি ও বিট থেকে পাওয়া যায়। এগুলো শরীরে গিয়ে ভিটামিন এ তে রূপান্তরিত হয়। খাবার ডায়েটে এগুলো নিয়মিত রাখলে ত্বকের অনেক উপকারিতা পাওয়া যায়।
ভিটামিন ই ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার:
ভিটামিন ই ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার ত্বককে ফ্রি র্যাডিকেল থেকে রক্ষা করে, ত্বককে উজ্জ্বল করে ও বার্ধক্যের ছাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চলুন ভিটামিন ই সমৃদ্ধ কিছু খাবারের তালিকা জেনে নেই – শস্য জাতীয় বীজ ,বাদাম (আখরোট, কাঠবাদাম, কাজু), সূর্যমুখী বীজ ,অ্যাভোকাডো, তেল (পাম, সূর্যমুখীর তেল), চিয়া সিড ও ফ্ল্যাক্স সিড। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার যেমন -স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি,র্যাসবেরি,ডালিম ও চা ।
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার :
এগুলো ত্বকের সার্বিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড- স্যামন, ম্যাকেরেল, সার্ডিনে পাওয়া যায় আর প্রোটিন পাওয়া যায় -ডিম, মাছ, মুরগি, দুধ, দই, ডাল ও ছোলাতে।
পানি:

রেগুলার পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান না করলে শরীরের অনেক ক্ষতি হয়। কারণ পানি শরীর থেকে দূষিত টক্সিন বের করে, ত্বককে সতেজ ও আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন কমপক্ষে ৭–৮ গ্লাস পানি পান করা উচিত।
উপরে উল্লেখিত সকল খাবার নিয়মিত গ্রহণ করার পাশাপাশি জিঙ্ক ও সেলেনিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন – বিভিন্ন ছোট বড় সামুদ্রিক মাছ , কলিজা,ৎবাদাম ও পানি জাতীয় জুস প্রচুর পরিমাণে খেতে হবে। আর অবশ্যই বাইরের জাঙ্ক ফুড, অতিরিক্ত তেল জাতীয় খাবার , চিনি জাতীয় প্রসেসড ফুড এরিয়ে চলতে হবে। এগুলো শরীর ও ত্বক উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর।