সল্যুশন

ব্রণহীন, সতেজ ত্বক পেতে করলার ব্যবহার।

ব্রণহীন, সতেজ ত্বক পেতে করলার ব্যবহার।

প্রচুর ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদানে ভরপুর একটি তেতো সবজি হলো করলা। এর স্বাদ তেতো হলেও এর রয়েছে প্রচুর পুষ্টি গুণ। করলা শুধু স্বাস্থ্যের জন্য নয়, ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও খুবই কার্যকরী একটি প্রাকৃতিক উপাদান।

ত্বককে সুন্দর ও সতেজ রাখতে অনেকেই প্রাকৃতিক উপাদান খোঁজেন, করলা এমনই এক প্রাকৃতিক উপাদান, যা ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার করে, ব্রন দূর করে এবং বাইরে থেকে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে। চলুন আজকের ফিচারে ত্বককে ব্রণ মুক্ত, সতেজ রাখতে করলার ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই।

করলার পুষ্টিগুণ:

তেতো স্বাদযুক্ত করলায় রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ,অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপার্টিজ, আয়রন,জিংক,ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, ফলিক অ্যাসিড ও ডায়েটারি ফাইবার। যা আমাদের শারীরিক স্বাস্থ্য ও ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। যাদের শরীরে ঘাঁ,পাঁচড়ার সমস্যা আছে তাদের চিকিৎসকরা রেগুলার করলার ভাজি/করলার জুস /করলার তরকারি খেতে বলেন। কারন এটি শরীরের রক্ত পরিষ্কার করে ত্বককে ভেতর থেকে ডিটক্সিফাই করে, ফলে চর্মরোগ কমে যায়। এছাড়াও করলা – ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ,হজমের সমস্যা দূর করা,কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা ও অতিরিক্ত ওজন কমাতে সাহায্য করে।

ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষায় করলা:

ধুলোবালি, পারিপার্শ্বিক দূষিত পরিবেশ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস ও ত্বকের সঠিক যত্নের অভাবে ব্রনের সমস্যা আজকাল বেড়েই চলেছে। বাজারে ব্রনের সমস্যা দূর করার অনেক ধরনের প্রসাধনী পাওয়া যায়। তবে,যারা ত্বকে কোনরকম ক্যামিক্যাল পন্য ব্যবহার করতে পছন্দ করেন না, তারা ত্বকের যত্নে প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে করলা বেছে নিতে পারেন। কারন ত্বকের- ব্রণ, ফুসকুড়ি ,বার্ধক্য, র‍্যাশ বা লালচে ভাব দূর করতে করলা খুবই কার্যকর। কারন, করলায় থাকা ভিটমিন,অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপার্টিজ,খনিজ পদার্থ ও ডায়েটারি ফাইবার শরীরের রক্ত পরিষ্কার করে, বলিরেখা ও এজিং সাইন কমায় এবং ত্বককে সতেজ, স্বাস্থ্যকর রাখতে সাহায্য করে।

ত্বকের যত্নে করলা কীভাবে ব্যবহার করা যায়:

করলা

রেগুলার খাবার ডায়েটে করলার (ভাজি ,তরকারি ও জুস) রাখার পাশাপাশি ,ত্বকের যত্নে করলার সাথে আরো কিছু উপাদান মিশিয়ে বিভিন্ন ফেইসপ্যাক তৈরি করে বাহ্যিকভাবে ব্যবহার করা যায়। এতে ত্বক ও শরীর উভয়ই সুস্থ থাকবে।

করলা ও মধু:

করলা ও মধু উভয়েই রয়েছে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট প্রপার্টিজ যা ত্বকের ব্রণ, র‍্যাশ ও ইনফ্লামেশন কমিয়ে ত্বককে সতেজ ও উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে। এই ফেসপ্যাক তৈরি করতে আমাদের লাগবে করলার রস ও মধু। একটি করলা কয়েক টুকরো স্লাইস করে এগুলো ধুয়ে শিল,পাটায় বেটে কিংবা ব্লেন্ড করে ২ চা চামচ পরিমাণ রস নিয়ে সাথে ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে ভালোভাবে মিশ্রণ তৈরি করে নিন। এবার এটি মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই ফেসপ্যাকটি ব্রণ সারাতে খুবই ভালো কাজ করে।

করলা ও অ্যালোভেরা জেল:

ব্রণ,সানবার্ন, রোদে পোড়া কালচে দাগ, লালচে ভাব, ইনফ্লামেশন ও বলিরেখা কমাতে সপ্তাহে অন্তত দুই বার করলা ও অ্যালোভেরা জেলের এই ফেসপ্যাকটি তৈরি করে ব্যবহার করে দেখতে পারেন। আমরা সবাই অ্যালোভেরা জেলের গুনাগুন সম্পর্কে কমবেশি জানি, এই প্রাকৃতিক উপাদানটি ত্বকের যত্নে খুবই ভালো।

এটা তৈরি করতে একটি বাটিতে ১ চা চামচ করলার রস ও ১ চা চামচ অ্যালোভেরা জেল লাগবে,এবার এই দুটি উপাদান ভালোভাবে মিশিয়ে মুখের লালচে বা রোদে পুড়ে যাওয়া স্থানে ভালোভাবে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটা ত্বকের সানবার্ন ও লালচে ভাব রিমুভ করে ত্বককে টানটান ও সতেজ রাখতে সাহায্য করে।

করলা ও দই:

দইয়ে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড ও প্রোবায়োটিকস ত্বককে এক্সফোলিয়েট করে ত্বককে মসৃণ ও উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। সাথে করলার অ্যান্টি অক্সিডেন্ট,অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও ডিটক্সিফাইং গুণাবলী ত্বককে ব্রণ মুক্ত,মসৃণ ও গ্লোয়িং রাখতে সাহায্য করে। এই ফেসপ্যাকটি তৈরি করতে একটি বাটিতে ১ চা চামচ করলার পেস্ট ও ১ চা চামচ টক দই নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এবার এটি পুরো ফেইসে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এটা নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বক হবে সতেজ, উজ্জ্বল ও দাগমুক্ত।

করলার জুস:

শরীরকে ভেতর থেকে ডিটক্সিফাই ও উজ্জ্বল করতে চিকিৎসকরা তেতো স্বাদ যুক্ত করলার জুস সাজেস্ট করেন। করলার জুস নিয়মিত পান করলে রক্ত পরিষ্কার হয় ,টক্সিন দূর হয়‌ এবং ত্বকের ব্রণ, দাগ কমিয়ে ত্বককে সতেজ ও উজ্জ্বল করে। চলুন করলার জুস তৈরি করার পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে নেই, একটি পাত্রে ২–৩টি মাঝারি আকারের করলা মাঝ বরাবর কেটে এর ভিতরে থাকা বীজ ছাড়িয়ে ছোট আকারে কেটে ভালোভাবে ধুয়ে নিন,এবার এটি ব্লেন্ডারে দিয়ে সাথে আধা গ্লাস পানি,সামান্য লেবুর রস ,সামান্য মধু ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে ব্লেন্ড করে নিন।

ব্লেন্ড করার পর জুস একটি ছাকনি দিয়ে ভালোভাবে ছেঁকে গ্লাসে ঢেলে নিন। ব্যাস করলার জুস তৈরি হয়ে গেল। এই জুসটি সকাল সকাল খালি পেটে পান করলে বেশি কার্যকর হয়।

করলা স্বাদে তেতো‌ হলেও এর উপকারিতা মিষ্টি ফলের থেকেও বেশি উপকারী। শারীরিক সু-স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যচর্চায় করলা হলো একটি অনন্য ভেষজ ।যা ত্বককে ভেতর থেকে ডিটক্সিফাই করে, উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং ত্বকের ব্রন দূর করে ত্বককে সুন্দর ,সুস্থ ও সতেজ রাখতে সাহায্য করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *