ত্বকের যত্ন

ত্বক ফর্সা নয়, উজ্জ্বল রাখার টিপস।

ত্বক ফর্সা নয়, উজ্জ্বল রাখার টিপস।

ত্বকের রং ফর্সা কিংবা শ্যামলা যেমনই হোক না কেন,ত্বক যদি হয়- সুন্দর,সতেজ, স্বাস্থ্যকর ও নিখুঁত তবেই ত্বককে বেশি উজ্জ্বল দেখা যায় । একটু খেয়াল করলেই বুঝতে পারবেন, আশেপাশে এমন অনেকেই আছে, যাদের ত্বকের রং ফর্সা নয় কিন্তু মুখে যেন আলাদা একটা গ্লেস ফুটে উঠেছে।

এমনটা কেন হয় ? শুধু নামিদামি ব্র্যান্ডের প্রোডাক্ট ব্যবহার করেই কি ত্বককে উজ্জ্বল করা যায়! না ; তবে ভালো মানের স্কিন কেয়ার প্রডাক্ট ব্যবহারের পাশাপাশি সঠিক নিয়মে স্কিনকেয়ার , কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ও খাদ্যাভ্যাস মেইনটেইন করার মাধ্যমে ত্বককে উজ্জ্বল রাখা যায়। আজকের ফিচারে আমরা সে সম্পর্কেই আলোচনা করবো। তাই দেরি না করে, চলুন জেনে নেই।

ভালোমানের স্কিন কেয়ার প্রডাক্ট বাছাই করার উপায়:

ত্বকের ধরন, প্রয়োজন ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না বুঝেই যেকোনো একটা প্রডাক্ট ব্যবহার করা ত্বকের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে যেমন- ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া , ব্রণ উঠা , ফুসকুড়ি , ইনফ্লামেশন হয়ে লালচে ভাব হওয়া ইত্যাদি। তাই ত্বকের যত্নে সবসময় স্কিনটাইপ ও ত্বকের সমস্যা অনুযায়ী ভালোমানের স্কিন কেয়ার প্রডাক্ট ব্যবহার করা উচিত। এখন, প্রশ্ন হলো আপনি কিভাবে বুঝবেন এই প্রডাক্টটি আপনার ত্বকের জন্য ভালো নাকি খারাপ ? চলুন ভালোমানের স্কিন কেয়ার প্রডাক্ট বাছাই করার কিছু উপায় সম্পর্কে জেনে নেই।

  • প্রডাক্টটির লেবেলে থাকা উপাদান দেখে বুঝে নিন, উপাদানগুলো আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী ভালো নাকি ক্ষতিকর।
  • ত্বকের যত্নে ব্যাবহৃত বিভিন্ন প্রডাক্ট যেমন- ময়েশ্চারাইজার, ক্লিনজার,সিরাম ও টোনার ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট অংশ যেমন – কানের পেছনে বা হাতের বাহুতে দৈনিক দুইবার ৭-১০ দিন পর্যন্ত ব্যবহার করে এর প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে বুঝতে হবে এটি ত্বকে- লালচে ভাব, চুলকানি, ফোলাভাব বা অতিরিক্ত শুষ্কতা তৈরি করছে কিনা।
  • প্যাচ টেস্ট করে যদি ত্বকে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না হয় বরং ত্বকের নির্দিষ্ট কিছু সমস্যা সমাধান হয় অর্থাৎ যে কারণে আপনি প্রডাক্টটি ত্বকের যত্নে ব্যবহার করছেন, সেই সমস্যাগুলো যদি কিছুটা রিমুভ হয় তবে বুঝে নিবেন, এটি ভালো।

স্বাস্থ্যকর অভ্যাস:

উৎশৃংখল ,অলস জীবন-যাপন শরীর, স্বাস্থ্য ও ত্বক উভয় ক্ষেত্রেই ক্ষতিকর। কথায় আছে না, স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই হলো সুন্দর ও সতেজ থাকার চাবিকাঠি। তাই রেগুলার লাইফস্টাইলে কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চলতে হবে।

পানি পান করা

শরীর‌ ভেতর থেকে হাইড্রেটেড থাকলে বাইরে থেকে ত্বককে সতেজ , উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যকর দেখায়। তাই রেগুলার কমপক্ষে ২ লিটার পরিমাণে পানি পান করুন। তবেই শরীর ও ত্বক উভয়ই হাইড্রেটেড থাকবে।

নিয়মিত শরীরচর্চা করা

আপনারা নিশ্চয়ই ভাবছেন ,শরীরচর্চা করার সাথে ত্বকের আবার কি সম্পর্ক? যদি বলি, শরীরচর্চার সাথে ত্বকের সুস্বাস্থ্য ও উজ্জ্বলতার সম্পর্ক আছে। চলুন কারনটা বুঝিয়ে বলি, নিয়মিত শরীরচর্চা করলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে,এতে ত্বকের কোষে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছায় ফলে, ত্বক টানটান ও ফ্রেশ দেখায়। এছাড়াও ঘামের মাধ্যমে শরীরের টক্সিন দূর হয়, কোলাজেন প্রডাকশন বাড়ে ও স্ট্রেস কমে। এতে ত্বক উজ্জ্বল হয়, বার্ধক্যের ছাপ দেরিতে আসে ও ত্বক হয় স্বাস্থ্যকর।

শরীরচর্চা করার পর কিংবা বাইরে থেকে এসে ত্বক পরিষ্কার করা

শরীরচর্চা করার পর কিংবা বাইরে থেকে এসে অবশ্যই ত্বক ক্লিনজার দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।কারন, ঘেমে ময়লা জমে ত্বকের পোরস ক্লগ হয়ে ব্রণ ,ফুসকুড়ি ,ব্ল্যাক হেডস ও হোয়াইট হেডস হয়।

পর্যাপ্ত ঘুমানো

ঘুমানোর মাধ্যমে শরীর ও ত্বক রিজেনারেট হয়। ক্লান্তি দূর হয় পাশাপাশি শরীর ও ত্বক উভয়ই সতেজ, স্বাস্থ্যকর ও উজ্জ্বল দেখায়। তাই দৈনিক কমপক্ষে ৭-৮ ঘন্টা ঘুম নিশ্চিত করূন।

ঘুমানোর আগে ত্বকের যত্ন নেওয়া

ত্বককে সুন্দর, উজ্জ্বল ও নিখুঁত রাখতে রাতের বেলায় সঠিকভাবে স্কিন কেয়ার করে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কারন , দিনের তুলনায় রাতের বেলায় ত্বকের যত্ন নিলে বেশি কার্যকর হয়। তাই অলসতা না করে, ঘুমাতে যাওয়ার আগে অবশ্যই ত্বকের যত্ন নিতে হবে।

অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলা

বেশি মশলাযুক্ত, তেলজাতীয় ভাজাপোড়া, প্রক্রিয়াজাত খাবার,অধিক চিনি জাতীয় মিষ্টি খাবার ও ফাস্টফুড জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। কারন এগুলো ত্বক ও শরীর উভয় ক্ষেত্রেই ক্ষতিকর।

সানস্ক্রিন ব্যবহার করা

সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে বাইরে বের হওয়ার আগে নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। সূর্যের ক্ষতি থেকে ত্বককে রক্ষা করার পাশাপাশি আরও অনেক উপকারিতা রয়েছে সানস্ক্রিন ব্যবহারের । গবেষণায় দেখা গেছে যারা ত্বকের যত্নে নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করে, তাদের ত্বক অন্যান্যদের তুলনায় বেশি সতেজ,স্বাস্থ্যকর ও ইয়াং।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

সঠিক খাদ্যাভ্যাস ত্বকের উপর গুরুত্বপূর্ন প্রভাব ফেলে , কারন ,খাবারে থাকা – ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো শরীরের পাশাপাশি ত্বকের উজ্জ্বলতার ওপরেও প্রভাব ফেলে যেমন- পরিবেশের বাহ্যিক ক্ষতি অর্থাৎ সূর্যের ক্ষতিকার রশ্মি ও বাইরের ধুলোবালির প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করে, ত্বকের সেল পূর্ন গঠন করে এবং মেলানিন উৎপাদন কমায়। তাই রেগুলার খাবার ডায়েটে এমন কিছু পুষ্টিকর খাবার প্রভাইড করতে হবে যা ত্বকের উজ্জ্বলতা এবং স্বাস্থ্য‌ দুটোই ব্যালান্স করবে। চলুন জেনে নেই।

ভিটামিন সি ও সাইট্রাস জাতীয় ফল

কমলা, লেবু , আঙ্গুর, টমেটো, মালটা, জাম্বুরা,পেয়ারা, স্ট্রবেরি, কিউই, আমড়া,কামরাঙ্গা ও কাঁচা আমে ভিটামিন সি থাকে, যা ত্বকের মেলানিন উৎপাদন কমিয়ে ত্বককে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। এই ফলগুলো রেগুলার খাবার ডায়েটে রাখবেন। এগুলো তাজা খাওয়ার পাশাপাশি , সালাদে যোগ করে অথবা জুস হিসেবেও উপভোগ করতে পারেন।

বাদাম/বীজ জাতীয় খাবার

বাদাম ও বীজ জাতীয় খাবারে ভিটামিন, মিনারেল, হেলদি ফ্যাট ,ভিটামিন E, ওমেগা-৩, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রচুর প্রোটিন রয়েছে। এগুলো ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্বাস্থ্যের জন্যও খুবই উপকারী। বাদাম/ বীজ জাতীয় খাবারগুলো হলো -আখরোট, কাঠবাদাম ,চীনা বাদাম,চিয়া সীড, পেস্তা বাদাম, হাজেল নাট, কুমরার বীজ , সূর্যমুখীর বীজ এবং তিসির বীজ । এগুলোতে থাকা পুষ্টি উপাদান ত্বককে হাইড্রেটেড ও স্বাস্থ্যকর রাখে।

সবুজ শাক-সবজি

সবুজ শাকসবজি ভিটামিন( এ,সি , ই) ,অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও পুষ্টিগুনে ভরপুর। সবুজ শাকসবজি যেমন: পালং শাক, কেল শাক , লাল শাক,কলমি শাক ,ধনেপাতা , এবং বাঁধাকপি, ঢেঁড়স, ব্রকলি, শিম ও বরবটি। এগুলো ত্বককে মেরামত এবং পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়তা করে।

আমিষ জাতীয় খাবার

যেকোনো ছোট বড় মাছ যেমন- মলা,স্যামন ফিস, ম্যাকেরেল, সার্ডিন , চিংড়ি, ঝিনুক,ডিম ও মুরগির মাংসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ,ওমেগা-৩ ,ফ্যাটি অ্যাসিড , ভিটামিন (ডি ,ই ) এবং জিঙ্ক। এই পুষ্টি উপাদান গুলো ত্বকের কোষ মেরামত করে ,কোষের পুনর্নবীকরণে সাহায্য করে এবং সুস্থ ও উজ্জ্বল ত্বক বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পুষ্টি দেহে সরবরাহ করে।

উপরে উল্লেখিত খাবারের পাশাপাশি আরও রাখতে পারেন গাজর,পেঁপে ,আনারস,কটেজ পনির,দই, বেরি জাতীয় ফল ও মিষ্টি আলু। এগুলো শরীর ও ত্বক উভয় ক্ষেত্রেই উপকারী। ভালোমানের স্কিন কেয়ার প্রডাক্ট দিয়ে ত্বকের সঠিক যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর কিছু অভ্যাস ও রেগুলার খাবার ডায়েটে সঠিক পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ খাদ্য‌ প্রভাইড করার মাধ্যমে শরীর ও ত্বকের সবোর্চ্চ সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *