অয়েলি স্কিনের যত্নের সঠিক উপায়।
আমাদের সবার ত্বকের ধরন একে অপরের থেকে ভিন্ন ভিন্ন , এরমধ্যে ‘অয়েলি স্কিন’ হলো ত্বকের একটি ধরন। এই ধরনের ত্বকে অতিরিক্ত সেবাম উৎপন্ন হয় যার কারণে মুখে সব সময় একটা চকচকে ,আঠালো ভাব থাকে। এছাড়াও এই ধরনের ত্বকে বাইরের ধুলোবালি সহজেই আটকায় ফলে ব্রণ, ব্ল্যাকহেডস, হোয়াইটহেডসের মতো সমস্যা বেড়ে যায়। অয়েলি স্কিনে দেখা যায়, মুখ ধোয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই ত্বকে তেল চলে এসেছে। অয়েলি স্কিনের এই সমস্যা নিয়ে বিশ্বের কাউন্টলেস মানুষ বিভ্রান্ত।
অয়েলি স্কিনকে সারাদিন ফ্রেশ ও ম্যাট রাখা একটা চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার। তবে এই নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। প্রয়োজন শুধু একটি সঠিক রুটিন এবং কিছু জরুরি নিয়ম মেনে চলা। আজকের ফিচারে আমরা আলোচনা করবো অয়েলি স্কিনের জন্য উপযোগী ফেসওয়াশ, সিরাম ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করার সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে যা আপনার ত্বকের তেল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে এবং দেবে ঝলমলে ও সুস্থ, সুন্দর ত্বক।
অয়েলি স্কিনের যত্নে ফেসওয়াশ কীভাবে বাছাই করবেন:

অয়েলি ত্বকের যত্নে ফেসওয়াশ বাছাই করার সময় কিছু বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। কারন অয়েলি স্কিনে অন্য স্কিন টাইপের তুলনায় বেশি সেবাম উৎপন্ন হয় তাই প্রবলেমও অন্যান্য স্কিন টাইপের তুলনায় বেশি হয় যেমন- ওপেন পোরস, পিম্পল ,তেলতেলেভাব ইত্যাদি। তাই এই ধরনের স্কিনের জন্য প্রোডাক্ট সিলেক্ট করা বেশ কঠিনই বটে! অয়েলি স্কিনের জন্য এমন ফেসওয়াশ বাছাই করতে হবে যা ত্বকের অতিরিক্ত তেল শুষে নেয়, আবার একেবারে শুষ্ক করে না ও ত্বকের প্রাকৃতিক স্বাস্থ্য বজায় রাখে।
এক্ষেত্রে জেল ভিত্তিক ,ফোমিং ফেসওয়াশ ত্বকের জন্য ভালো হবে। ফেসওয়াশের উপাদানের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে, যেমন – টি ট্রি ওয়েল,নিয়াসিনামাইড,স্যালিসাইলিক এসিড,নিম ইত্যাদি উপাদান সমৃদ্ধ ফেসওয়াশ অয়েলি ত্বকের যত্নে খুবই ভালো। এগুলো ত্বকের গভীরের ময়লা পরিষ্কার করে, ব্রণ ও ব্ল্যাকহেডস কমাতে সাহায্য করে ও ত্বকের তেল নিয়ন্ত্রণে রাখে।
তাই ফেশওয়াস বাছাই করার সময় এই উপাদানগুলো আছে কিনা সেই ব্যাপারে নিশ্চিত হতে হবে।
অয়েলি স্কিনের যত্নে কিছু ফেসওয়াশ-
The Body Shop Tea Tree Skin Clearing Facial Wash,
Guerniss Acne Facial Cleanser , Neutrogena Oil Balancing Facial Wash , Cetaphil Oily Skin Cleanser।
অয়েলি স্কিনের যত্নে সিরাম কীভাবে বাছাই করবেন:

ত্বককে সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর রাখতে সব দিকেই খেয়াল রাখতে হবে। পছন্দমতো যেকোনো প্রডাক্ট ব্যবহার করলেই হলো, এমন চিন্তাভাবনা করে ত্বকের যত্ন নিলে ত্বকের তো বারোটা বাজবেই! অয়েলি স্কিনের যত্নে শুধু ফেসওয়াশ নয়, সঠিক সিরাম বাছাই করাটাও গুরুত্বপূর্ণ। কারন, ভুল সিরাম ব্যবহার করলে ব্রণ, পোরস ক্লগিং ও অতিরিক্ত তেল উৎপাদন হওয়ার সমস্যা বাড়তে পারে। তাই সিরাম বাছাই করার সময় কিছু বিষয়ের ওপর খেয়াল রাখতে হবে।
ওয়েল ফ্রি , লাইট ওয়েটের জেলভিত্তিক সিরাম ব্যবহার করতে হবে। যেগুলোতে Hyaluronic Acid ,Salicylic Acid (BHA) ,Niacinamide ৫–১০%, Tea Tree Extract ও Zinc আছে। এই এক্টিভ উপাদানগুলো ত্বককে হাইড্রেটেড রাখে, অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে,পোরস পরিষ্কার করে অয়েলি স্কিনকে স্বাস্থ্যকর, সুন্দর রাখতে সাহায্য করে।
অয়েলি স্কিনের যত্নে কিছু সিরাম –
Cerave Hydrating Hyaluronic Acid Serum ,Guerniss Niacinamide 10% + Zinc 1% Serum, Simple 10% Niacinamide (Vitamin B3) Booster Serum, La Roche-Posay Pure Niacinamide 10 Serum ।
অয়েলি স্কিনের যত্নে ময়েশ্চারাইজার কীভাবে বাছাই করবেন:
অনেকেই মনে করে,অয়েলি ত্বক তো সবসময় তেলতেলে হয়ে থাকে, তাই ময়েশ্চারাইজারের বোধহয় দরকার নেই। তবে এই ধারনা একদমই ভুল। তৈলাক্ত ত্বকেও ময়েশ্চারাইজারের প্রয়োজন আছে। কারন , ত্বকে ময়েশ্চারাইজার না দিলে ত্বক ডিহাইড্রেটেড হয়ে আরও বেশি তেল উৎপাদন করে। তৈলাক্ত ত্বকে এমন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে যা ত্বককে তৈলাক্তভাব কম করবে । এক্ষেত্রে লাইট ওয়েট টেক্সচারের, হালকা ,নন কমোডেজেনিক , জেলভিত্তিক ময়েশ্চারাইজার ওয়েলি স্কিনের জন্য ভালো।
অয়েলি স্কিনের যত্নে কিছু ময়েশ্চারাইজার –
The Body Shop Seaweed Oil Control Gel Cream, Neutrogena Hydro Boost City Shield Hydration Lotion SPF 25 , Pond’s Super Light Gel, Simple Vital Vitamin Night Cream।
অয়েলি স্কিনের যত্নে কোন ধরনের ফেসওয়াশ , সিরাম ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন সেই সম্পর্কে তো আলোচনা করেছি এবার , এগুলো সঠিক পদ্ধতিতে কীভাবে ব্যবহার করবেন সেই সম্পর্কে আলোচনা করব। চলুন জেনে নেই।
সকাল ও রাতের রুটিন আলাদাভাবে মেইনটেইন করতে হবে:
দিনের বেলায় বিভিন্ন কর্মব্যস্ততার চাপ, সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি ও ধুলোবালিতে ত্বক বেশি পরিমাণে দূষিত হয়। তাই সকালে ঘুম থেকে উঠেই শুরু করতে হয় ত্বকের যত্ন , এক্ষেত্রে
সকালে –
ফেসওয়াশ → সিরাম → ময়েশ্চারাইজার (SPF ১৫-৩০) যুক্ত ব্যবহার করতে হবে। দিনে ২ বারের বেশি ফেসওয়াশ ব্যবহার করবেন না।
রাতে –
ফেসওয়াশ → সিরাম → হালকা ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন।
ফেসওয়াশ:
ফেসওয়াশ ব্যবহার করার পদ্ধতি আমরা কম বেশি সবাই জানি। তবুও ফেসওয়াস ব্যবহারের কিছু গাইডলাইন জেনে নিন।
ফেসওয়াশ ডাইরেক্ট ত্বকে না লাগিয়ে, হাতের তালুতে নিয়ে পানি দিয়ে হালকা ফেনাইতো করে মুখে লাগিয়ে মিনিট খানেক নাকের চারপাশ, কপাল ও থুতনির (T-Zone) এরিয়া ম্যাসাজ করে ঠান্ডা পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন।
সিরাম:
পরিষ্কার ত্বক তোয়ালে দিয়ে ভালোভাবে মুছে হাতের তালুতে কয়েক ফোঁটা সিরাম নিয়ে ত্বকে এপ্লাই করুন। এরপর ঘুমাতে চলে যান। সিরাম সকাল – রাত দুইবার ব্যবহার করা যায়। তবে কিছু একটিভ সিরাম যেমন- স্যালিসাইলিক এসিড,রেটিনল হলে দিনের বেলায় ব্যবহার না করে শুধু রাতে ব্যবহার করবেন। এছাড়াও এগুলো রেগুলার ব্যবহার না করে সপ্তাহে ২–৩ দিন ব্যবহার করুন।
তবে Green Tea / Tea Tree Extract Serum, Hyaluronic Acid Serum, Niacinamide Serum (৫–১০%) যুক্ত সিরাম সকাল,রাত দুইবার নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারেন।
ময়েশ্চারাইজার:
ত্বকে সিরাম এপ্লাইয়ের ১–২ মিনিট পর হালকা জেল বা অয়েল-ফ্রি ময়েশ্চারাইজার লাগান। দিনের বেলায় ময়েশ্চারাইজার লাগানোর পর অবশ্যই সানস্ক্রিন (SPF 30+)ব্যবহার করুন ।
রাতের বেলায় হালকা টেক্সচারের নাইট ক্রিম লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন।
স্কিন টাইপ যেমনই হোক না কেন স্কিনকে স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর রাখতে প্রয়োজন সঠিক যত্ন ও সঠিক স্কিন কেয়ার রুটিন মেইনটেইন করা। অয়েলি স্কিনের যত্ন সঠিক ভাবে নিলে, অয়েলি স্কিন হবে সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর।