ত্বকের যত্ন

রুপচর্চায় মধুর উপকারিতা।

রুপচর্চায় মধুর উপকারিতা।

ত্বকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে মধু রূপচর্চায় যুগ যুগ ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এতে রয়েছে ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ত্বককে ভেতর থেকে পুষ্টি জোগায় এবং বাইরের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে। ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখা থেকে শুরু করে দাগ দূর করা ও উজ্জ্বলতা বাড়ানো পর্যন্ত নানা গুণে ভরপুর এই প্রাকৃতিক উপাদানটি আজও রূপচর্চার অন্যতম ভরসা।

সেই প্রাচীন কাল থেকে রানী-মহারানীরা তাদের সৌন্দর্য রক্ষায় মধুকে করতেন সহচর। আজকের আধুনিক বিজ্ঞানও এই প্রাকৃতিক উপাদানের গুণাবলীর ব্যাপারে একমত। ত্বকের যত্নে মধু একটি নির্ভরযোগ্য, প্রাকৃতিক সমাধান। চলুন আজকের ফিচারে ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষায় মধুর অসাধারণ কিছু গুণ ও ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই।

রুপচর্চায় মধু :

মধু হলো মৌমাছি দ্বারা তৈরি একটি প্রাকৃতিক মিষ্টি পদার্থ। মৌমাছি উরে উরে ঘুরে ঘুরে ফুল থেকে মধুরস (nectar) সংগ্রহ করে নিজেদের পাকস্থলীতে বিশেষ প্রক্রিয়ায় জমা রাখে এবং মৌচাকে এনে তা সংরক্ষণ করে রাখে। এটা মিষ্টি স্বাদযুক্ত, ঘন ও আঠালো একটি পদার্থ যা ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও এনজাইমে সমৃদ্ধ থাকে। এটা দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে রাখা যায়‌ ও সহজে নষ্ট হয় না।

ত্বকের যত্নে মধু কিভাবে কাজ করে:

Honey

ত্বকের যত্নে মধু হলো একধরনের প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার ও ব্রণের কারণে সৃষ্ট ইনফ্লামেশন রোধে হিলার (healer) হিসেবে কাজ করে।এতে থাকা ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষা ও সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

১. মধু ত্বকের ভেতর আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং সংবেদনশীল বা রুক্ষ ত্বককে ভেতর থেকে শান্ত করে।ফলে ত্বক ভেতর থেকে নরম ও উজ্জ্বল হয়।

২. মধুতে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণাবলী ত্বকের ব্রণ কমাতে সাহায্য করে।

৩. ত্বকের যত্নে নিয়মিত মধু ব্যবহার করলে ব্রণের দাগ ও রোদে পোড়া দাগ ধীরে ধীরে হালকা হয়ে যায়।

৪. এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রোপার্টিজ ত্বকের বলিরেখা কমাতে সাহায্য করে।

ত্বকের যত্নে মধু কিভাবে ব্যবহার করতে হয়:

ত্বকের যত্নে মধু একটি অসাধারণ প্রাকৃতিক উপাদান। এটি অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ময়েশ্চারাইজিং বৈশিষ্ট্যে ভরপুর, যা ত্বককে পরিষ্কার, উজ্জ্বল এবং কোমল রাখতে সাহায্য করে। ত্বকের যত্নে মধু নানা ভাবে ব্যবহার করা যায় যেমন- ক্লিনজার হিসেবে, ফেসপ্যাক বানিয়ে ও স্ক্রাব তৈরি করে।

মধুর ক্লিনজার:

মধুতে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি ইনফ্লামেশন গুনাবলী। তাই মধু ব্যবহার করে ত্বক ক্লিন করলে অনেক বেনিফিট পাওয়া যায়। চলুন মধুর ক্লিনজার তৈরি করে কিভাবে ব্যবহার করব সে সম্পর্কে জেনে নেই।

প্রথমে হালকা গরম পানি দিয়ে পুরো মুখ ভিজিয়ে নিন। এরপর আঙুলের ডগায় পরিমাণমতো কাঁচা মধু (Raw Honey) নিয়ে পুরো মুখে হালকা করে গোলাকারে ১-২ মিনিট পর্যন্ত ম্যাসাজ করুন । এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে আপনার ত্বক ভেতর থেকে পরিষ্কার হবে, ময়েশ্চারাইজড থাকবে এবং প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল দেখাবে।

মধু ও দারুচিনির ফেসপ্যাক:

( মধু ও দারুচিনি ) এই দুটো উপাদানই ত্বকের ব্রণ কমাতে সাহায্য করে। দারুচিনি ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং এর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল গুণাগুণ ব্রণ কমাতে সাহায্য করে।
একটি বাটিতে ২ চামচ মধুর সাথে‌ ১ চা চামচ দারুচিনি গুঁড়ো নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন।

এবার এই পেস্টটি মুখের ব্রণে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট রেখে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই ফেসপ্যাকটি সপ্তাহে ১-২ বার ব্যবহার করলে ব্রনের সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে।

মধু ও বেসনের ফেসপ্যাক:

বেসনে রয়েছে ভিটামিন, খনিজ এবং প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েটিং উপাদান যা ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার করে‌ ও ত্বককে সুস্থ , উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে।
একটি পাত্রে ১ চা চামচ মধু, ১ চা চামচ বেসন ও কয়েক ফোঁটা গোলাপ জল নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। এবার মিশ্রণটি পুরো মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলুন। এই ফেসপ্যাক নিয়মিত ব্যাবহারে ত্বক ফর্সা,সতেজ হবে।

মধু ও দইয়ের ফেসপ্যাক :

দইয়ে রয়েছে ল্যাকটিক অ্যাসিড যা ত্বকের মৃত কোষ দূর করে ত্বকে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে। এই ফেসপ্যাক তৈরি করতে আমাদের লাগবে – ১ চামচ মধু ও ১ চামচ টক দই। এবার এই দুটি উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে মুখ ও গলায় লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এটি সপ্তাহে ২ বার ব্যবহার করলে আপনি পাবেন উজ্জ্বল ,নরম , গ্লোয়িং স্কিন।

মধু ও ওটমিল স্ক্রাব :

ওটমিল ত্বকের মৃত কোষ দূর করে ত্বককে মসৃণ ও নরম করে।এই স্ক্রাব তৈরি করতে আমাদের লাগবে ১ চামচ মধু, ১ চামচ বাটার ,১ চামচ গুঁড়ো করা ওটমিল ও ২-৩ ফোটা গোলাপ জল। এবার এই সবগুলো উপকরণ মিশিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করে পুরো মুখে আলতো হাতে ২ মিনিট ম্যাসাজ করে ১০ মিনিট রেখে দিন। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই স্ক্রাব সপ্তাহে একবার ব্যবহার করলে ত্বক হবে নরম, মসৃণ ও উজ্জ্বল।

মধু একটি প্রাকৃতিক উপাদান, তাই এটা ব্যবহারে ত্বকের তেমন কোন ক্ষতি হয় না। তবে, মধু ব্যবহারে অনেকের ত্বকেই এলার্জি প্রতিক্রিয়া পাওয়া গিয়েছে। তাই ব্যবহারের আগে অবশ্যই এর প্রতিক্রিয়া জানার জন্য প্যাঁচ টেস্ট করে বুঝে নিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *