সেনসিটিভ স্কিনের জন্য মেকআপ টিপস।
মেয়েরা স্বভাবতই মেকআপ করতে পছন্দ করে। তবে অন্যান্য স্কিন টাইপের তুলনায় সেনসিটিভ স্কিনে মেকআপ করা অনেক চ্যালেঞ্জের। কারণ ভুল প্রোডাক্ট দিয়ে মেকআপ করলে সেনসিটিভ ত্বকে সহজেই অ্যালার্জি, র্যাশ ও লালচে দাগ দেখা দিতে পারে। তাই, যাদের স্কিন সেনসিটিভ টাইপের তারা , মেকআপ করতে যেন একপ্রকার ভয় পায়। তবে, নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম ও বিষয় মাথায় রেখে মেকআপ করলে সেনসিটিভ ত্বকেও মনের মতো মেকআপ লুক ক্রিয়েট করা যায়। তাই,ত্বকের সেনসিটিভিটির কথা মাথায় রেখে মেকআপ করার সঠিক প্রোডাক্ট নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি।
আজকের ফিচারে থাকছে সেনসিটিভ স্কিনের জন্য কিছু কার্যকর মেকআপ টিপস এবং কোন ধরনের প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে সেনসিটিভ ত্বক থাকবে নিরাপদ ও অ্যালার্জি মুক্ত সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য।
সেনসিটিভ ত্বক কি?
সেনসিটিভ ত্বক হলো একটি স্কিন টাইপ যেখানে ত্বকের প্রটেকশন ব্যারিয়ার অন্যান্য স্কিন টাইপের তুলনায় বেশি দুর্বল ও সংবেদনশীল থাকে ফলে, ত্বক সহজেই বাইরের দূষন ও কেমিক্যালের প্রতি বিরূপ রিঅ্যাক্ট করে। যেমন- চুলকানি, জ্বালা, র্যাশ ও লালচে হয়ে যাওয়া।
কীভাবে বুঝবেন আপনার ত্বক সেনসিটিভ:
অনেকের ত্বক জন্ম থেকেই সেনসিটিভ অর্থাৎ জেনেটিক্যালি সেনসিটিভ ত্বকের অধিকারী। আবার অনেকেরই জন্মগতভাবে ত্বক সেনসিটিভ না হলেও পরিবেশগত কারণে , অতিরিক্ত হার্শ ক্যামিক্যালযুক্ত প্রডাক্ট ব্যবহারের কারণে কিংবা স্বাস্থ্যগত সমস্যা যেমন-হরমোনাল পরিবর্তন, অ্যালার্জি, একজিমা,রোসেশিয়া, সোরিয়াসিস ও ঘুমের ঘাটতির কারণেও ত্বক সেনসিটিভ হয়ে যায়। এখন প্রশ্ন হল? কিভাবে বুঝবেন আপনার ত্বক সেনসিটিভ! এটা বোঝার জন্য ত্বকের উপসর্গগুলো যাচাই করতে হবে। চলুন সেনসিটিভ ত্বকের কিছু কমন উপসর্গ জেনে নেই।
- হালকা হার্শযুক্ত সাবান কিংবা অন্যান্য স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহারেই ত্বকে – চুলকানি, জ্বালা , র্যাশ ও লালচে হয়ে যায়।
- বাইরে রোদে বের হলে ত্বক দ্রুত লালচে হয়ে যায় ও পুড়ে যায়।
- পরিবেশগত দূষন, ধুলোবালি, আবহাওয়ার পরিবর্তন যেমন – গরম, ঠাণ্ডা ও শুষ্কতার প্রভাবে ত্বক সহজেই রিয়েক্ট করে।
- কাপর কিংবা অন্যান্য বস্তুর সাথে হালকা ঘষা বা টাচ লাগলেই ত্বকে লালচে ভাব বা দাগ হয়ে যাবে।
- মাঝে মাঝে ত্বকে শুষ্কতা, টান টান ও জ্বালাভাব অনুভব হবে।
সেনসিটিভ স্কিনের জন্য মেকআপ টিপস:
সেনসিটিভ স্কিনে যত কম প্রোডাক্ট ব্যবহার করবেন, ততই ত্বক সুস্থ থাকবে। তাই সেনসিটিভ ত্বকে মেকআপ করার ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে সঠিক প্রডাক্ট চয়েস করতে হবে। কারন অতিরিক্ত কেমিক্যাল যুক্ত ভুল প্রোডাক্ট সেনসিটিভ ত্বকে অ্যালার্জি, র্যাশ কিংবা জ্বালাপোড়া তৈরি করতে পারে।
১. সুগন্ধি ও অতিরিক্ত কেমিক্যালযুক্ত মেকআপ প্রডাক্ট সেনসিটিভ ত্বকে অ্যালার্জির সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই ফ্রেগরেন্স-ফ্রি, হাইপোঅ্যালার্জেনিক প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন।
২. সেনসিটিভ ত্বকে মেকআপ করার জন্য মিনারেল বেসড এর লাইট ওয়েট ফর্মুলার ফাউন্ডেশন বেছে নিন।এগুলো ত্বকে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে না। এগুলো হালকা ও নন-কমেডোজেনিক হওয়ায় পোরস ক্লগ হয় না।
৩. সেনসিটিভ ত্বকে মেকআপ লং লাস্টিং রাখতে লাইট ওয়েটের অ্যালকোহল-ফ্রি প্রাইমার ও সেটিং স্প্রে ব্যবহার করুন। তবে , মেকআপকে লং লাস্টিং করতে কিন্তু ভুলেও ওয়াটারপ্রুফ মেকআপ প্রোডাক্ট ব্যবহার করবেন না।
৪. মেকআপ করতে নরম ব্রাশ ও বিউটি ব্লেন্ডার ব্যবহার করুন। যাতে স্কিনে ঘর্ষণ কম হয়। আর মনে করে , মেকআপে ব্যাবহৃত ব্রাশ ও বিউটি ব্লেন্ডার নিয়মিত পরিষ্কার করে রাখুন এবং আপনার ব্যবহৃত ব্রাশ ও বিউটি ব্লেন্ডারটি অন্যজনের সাথে একদমই শেয়ার করবেন না।
৫. চোখের মেকআপের ক্ষেত্রে ক্রিম-বেসডের আইশ্যাডো ও ব্লাশ
ব্যবহার করুন এগুলো ত্বকে সহজেই ব্লেন্ড হয় ও ত্বককে হাইড্রেটেড রাখে।
৬. সেনসিটিভ স্কিনে Non-waterproof ও Ophthalmologist-tested লেখা মাসকারা ও আইলাইনার ব্যবহার করুন, এগুলো সেনসিটিভ ত্বকের জন্য নিরাপদ ও মাইল্ড ক্লিনজার দিয়েই সহজে উঠে যায়।
৭. সেনসিটিভ ত্বকে লং-লাস্টিং, ম্যাট টাইপের লিপস্টিক ফর্মুলা এড়িয়ে ক্রিমি বা গ্লসি টাইপের লিপস্টিক বা লিপটিন্ট ব্যবহার করুন।
৮. যেকোনো মেকআপ প্রোডাক্ট ব্যবহারের আগে অবশ্যই হাতের কনুই বা কানের পাশে লাগিয়ে প্যাচ টেস্ট করে এর রিয়াকশন বুঝে কন্টিনিউ করুন।
৯. মেকআপ রিমুভ করতে অবশ্যই অ্যালকোহল-ফ্রি মাইসেলার ওয়াটার বা সেনসিটিভ স্কিন ফ্রেন্ডলি টাইপের মাইল্ড ক্লিনজার ব্যবহার করুন।
সেনসিটিভ ত্বকে অতিরিক্ত হার্শ যুক্ত কেমিক্যাল প্রোডাক্ট এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করতে শক্তিশালী রিমুভার লাগে, যা ত্বকে জ্বালা ও অ্যালার্জি তৈরি করতে পারে। তাই সেনসিটিভ ত্বকে ওয়াটার-বেসড, মিনারেল-বেসড, ফ্র্যাগরেন্স-ফ্রি,নন কমোডেজেনিক ও হাইপোঅ্যালার্জেনিক প্রোডাক্ট ব্যবহার করূন । এগুলো সেনসিটিভ স্কিনের জন্য অনেক বেশি নিরাপদ।