ত্বকের যত্ন

স্ক্রাব বনাম কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট: কোনটি আপনার জন্য সঠিক?

স্ক্রাব বনাম কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট: কোনটি আপনার জন্য সঠিক?

সুন্দর, উজ্জ্বল ও সতেজ ত্বক পেতে শুধু নিয়মিত ফেসওয়াশ, মাস্ক, টোনার, ময়েশ্চারাইজার ও সিরাম ব্যবহার করলেই যথেষ্ট নয় প্রয়োজন এক্সফোলিয়েশনের ও। কারন প্রতিটি উপাদান ও প্রডাক্টের রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন কার্যকারিতা ,রূপচর্চায় এগুলোর গুরুত্ব অনেক। প্রতিদিনের ধুলোবালি ও দূষণের প্রভাবে ত্বকের ওপর যে আস্তরন পরে অর্থাৎ মৃত কোষ, এটা ত্বকের উজ্জ্বলতা ঢেকে দেয়, ত্বককে নিষ্প্রাণ, নিস্তেজ ও রুক্ষ করে তোলে।

এক্সফোলিয়েশনের মাধ্যমে ত্বকের সেই মৃত কোষ দূর করে ত্বককে প্রাণবন্ত ও দীপ্তিময় করে তোলা যায়। এক্সফোলিয়েশনের ধরন দু’টি—স্ক্রাব (ফিজিক্যাল) ও কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট। এর মধ্যে কোনটা আপনার ত্বকের জন্য উপযুক্ত, সেটাই জানা সবচেয়ে জরুরি। চলুন জেনে নেই, স্ক্রাব বা ফিজিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট ও কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট – কোনটা কার ব্যবহার করা উচিত।

স্ক্রাব বা ফিজিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট কি?

স্ক্রাবিং হলো ত্বকে জমে থাকা ময়লা ভেতর থেকে পরিষ্কার করার একটি পদ্ধতি, যা ত্বকে জমে থাকা মৃত কোষ, ধুলোবালি ও অতিরিক্ত তেল দূর করার জন্য ব্যবহার করা হয়। ফিজিক্যাল এক্সফোলিয়েন্টে সাধারণত ছোট ছোট দানাদার উপাদান থাকে যা ত্বকের উপর হালকা ঘষামাজার মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। স্ক্রাব বা ফিজিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট দুই ধরনের উপাদান দিয়ে তৈরি করা যায়। যেমন- ১.প্রাকৃতিক উপাদানভিত্তিক স্ক্রাব, ২.সিনথেটিক বা কেমিক্যাল উপাদানভিত্তিক স্ক্রাব।

প্রাকৃতিক উপাদানগুলো হলো ঘরে থাকা -চিনি, লবণ, কফি গুঁড়া, আখরোটের খোসা, চালের গুঁড়া, ওটমিল ইত্যাদি আর সিনথেটিক বা কেমিক্যাল উপাদানগুলো হলো – জোজোবা বিডস, সিলিকা বিডস ও বায়োডিগ্রেডেবল মাইক্রোবিডস।এগুলোর সাথে আরো যোগ করা হয় অ্যালোভেরা, মধু, ভিটামিন ই, নারকেল তেল‌ ও এসেনশিয়াল অয়েল। এই উপাদানগুলো ত্বককে পরিষ্কার করার পাশাপাশি নরম ও হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।

কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট কি?

কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট পদ্ধতিতে ঘষামাজার প্রয়োজন পড়ে না। এগুলোতে ব্যাবহৃত রাসায়নিক উপাদান ত্বকের মৃত কোষ গলিয়ে বা আলগা করে ত্বক পরিষ্কার করে। এছাড়াও এগুলো ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে ত্বকের উপরিভাগে জমে থাকা মৃত কোষ, অতিরিক্ত তেল , ময়লা , পোরস পরিষ্কার করে ত্বকের উজ্জ্বলতা পুনরুদ্ধার করে। ফিজিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট এর তুলনায় কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট বেশি কার্যকর ও ত্বকে দীর্ঘস্থায়ী বেনিফিট প্রদান করে।

এগুলোতে ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় যেমন- AHA (Alpha Hydroxy Acids) এটি ড্রাই ত্বকে ব্যবহার করা হয়,BHA (Beta Hydroxy Acids) অয়েলি ও ব্রণপ্রবণ ত্বকে ব্যবহার করা হয়, PHA (Polyhydroxy Acids) সেনসিটিভ ত্বকের জন্য ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও মাইল্ড, সেনসিটিভ ও ডেলিকেট স্কিনের জন্য এনজাইম ভিত্তিক উপাদান -পাপেইন ও ব্রোমেলেইন ব্যবহার করা হয়। এই কেমিক্যাল গুলো ত্বকের ভেতরে প্রবেশ করে মৃত কোষ গলিয়ে স্কিনকে মসৃণ, উজ্জ্বল ও ব্রণ-মুক্ত করে।

কোনটা কার জন্য উপযুক্ত?

ফিজিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট নাকি কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট কোনটা আমার ত্বকের যত্নে ব্যবহার করবো? এই প্রশ্নটি কমবেশি সবার মনেই আসে। চলুন জেনে নিই, আপনার ত্বকের জন্য কোনটি বেশি উপযোগী।

স্ক্রাব বা ফিজিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট:

যাদের স্কিনে তেমন কোনো সমস্যা নেই যেমন- পিম্পল, রুক্ষতা ও ইরিটেশন ইত্যাদি। তারা ত্বকের ইনস্ট্যান্ট গ্লো ফিরিয়ে আনতে স্ক্রাব বা ফিজিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট করবেন। কারন পিম্পলযুক্ত,ড্রাই ত্বকে ফিজিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট করলে ত্বকের পিম্পল ফেটে যেতে পারে ও স্কিনে মাইক্রো-টিয়ার হতে পারে।‌ যাদের নরমাল থেকে অয়েলি স্কিন তারা সপ্তাহে ১-২ বার স্ক্রাব বা ফিজিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট করলে ত্বক মসৃণ, নরম ও তুলনামূলক উজ্জ্বল হবে।

কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট:

দীর্ঘস্থায়ী ও কার্যকর বেনিফিট পেতে কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট খুবই ভালো। এক্ষেত্রে ত্বকের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন এসিড দিয়ে কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট করা হয়। কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েন্টে দানাদার কোন উপাদান ব্যবহার করা হয় না বিধায় এটি সব ধরনের ত্বকে ব্যবহার করা যায় যেমন- অয়েলি,নরমাল,সেনসেটিভ ও ড্রাই। ত্বকে প্রথমবার কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সবসময় লো কনসেন্ট্রেশন বা কম % দিয়ে শুরু করা উচিত। এক্ষেত্রে সপ্তাহে একবার এবং আস্তে আস্তে এর মাত্রা বাড়িয়ে সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করাই যথেষ্ট। ত্বকে কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট করার পর অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার ও দিনের বেলায় সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে ভুলবেন না যেন।

ত্বককে উজ্জ্বল, নরম ও মসৃণ রাখতে এক্সফোলিয়েন্ট করা রূপচর্চারই একটি অংশ। আশা করি , আজকের ফিচারের মাধ্যমে আপনার ত্বকে স্ক্রাব বা ফিজিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট নাকি কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট কোনটা ব্যবহার করবেন সে সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *