ত্বকের যত্ন

ফেসওয়াশ সঠিকভাবে বাছাই করার গাইড।

ফেসওয়াশ সঠিকভাবে বাছাই করার গাইড।

ত্বকের যত্ন নেওয়ার প্রথম ধাপ হলো ফেসওয়াশ দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করা। সুস্থ ও উজ্জ্বল ত্বক পেতে রেগুলার স্কিনকেয়ার রুটিনে ফেসওয়াশ ব্যবহার করা খুবই জরুরি। বাজারে অসংখ্য ব্র্যান্ডের, বিভিন্ন ধরনের ফেসওয়াশ পাওয়া যায়। এই অসংখ্য ব্র্যান্ডের কালেকশন থেকে ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক ফেসওয়াশ বেছে নিতে বিভ্রান্ত হয় অনেকেই। ত্বকের ধরন , প্রয়োজন ও সমস্যা অনুযায়ী ফেসওয়াশ সিলেক্ট করে ব্যবহার করলে ত্বকে জমে থাকা ময়লা, ধুলোবালি ও অতিরিক্ত তেল পরিষ্কার করার পাশাপাশি ব্রণ, রুক্ষতা ও শুষ্কতা প্রতিরোধেও সাহায্য করে।

তাই ত্বকের ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী ফেসওয়াশ নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ত্বকের ধরন সাধারণত চার ধরনের যেমন- অয়েলি, ড্রাই , সেনসিটিভ ও নরমাল । চলুন আজকের ফিচারে এই চার ধরনের ত্বকের জন্য সঠিকভাবে ফেসওয়াশ বাছাই করার গাইড সম্পর্কে জেনে নেই।

ফেসওয়াশ সঠিকভাবে বাছাই:

Face Wash - Skin

আমাদের সবার স্কিন টাইপ এক নয়‌ ,তাই প্রথমে নিজের ত্বকের ধরন সম্পর্কে বুঝতে হবে। অনেকেই ত্বকের ভুল ধরন বুঝে ভুল পন্য ব্যবহার করে, ত্বকের ক্ষতি করে ফেলে। তাই এমন ভুল যেন না হয়, তার জন্য আপনার ত্বকের ধরন কী? সেটা বোঝার সঠিক উপায় জেনে নিন।

অয়েলি স্কিন:

  • মুখের প্রায় সব অংশে তেল জমে থাকে বিশেষ করে টি-জোনের- কপাল, নাক ও থুতনিতে অতিরিক্ত তেল জমে স্কিন অনেক বেশি চকচকে দেখায়।
  • ত্বক সবসময় তেলতেলে ভাব হয়ে থাকে বিধায় ত্বকে ব্রণ, ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে।
  • ত্বকে যেকোনো মেকআপ প্রডাক্ট যেমন- ফাউন্ডেশন, কনসিলার এইসব লং লাস্টিং হয় না।

শুষ্ক স্কিন:

  • গোসল করার পর কিংবা ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়ার পর ত্বকে টান টান লাগে‌।
  • শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বক অনেক বেশি রুক্ষ, শুষ্ক হয়ে ফাটা দাগ পড়ে যায়।
  • ত্বকে এন্টি এজিং সাইন্স যেমন -ফাইন লাইনস দ্রুত দেখা যায়।

নরমাল স্কিন:

  • এই ধরনের স্কিনে তৈলাক্ততা ও শুষ্কতা উভয়ই ব্যালান্সড পরিমানে থাকে অর্থাৎ না বেশি শুষ্ক না বেশি তৈলাক্ত।
  • ত্বকেৎব্রণ, র‍্যাশ বা লালচেভাব কম হয়।
  • ত্বক মসৃণ ও স্বাস্থ্যকর দেখায়।

সেনসেটিভ স্কিন:

  • এই ধরনের স্কিনে যেকোন প্রডাক্ট ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করে , এর রিয়াকশন বুঝে ব্যবহার শুরু করতে হয়। নয়তো সামান্য প্রোডাক্ট ব্যবহারেই ত্বকে লালচে ভাব বা র‍্যাশ হতে পারে।
  • মাঝে মাঝে ত্বকে শুষ্কতা ও অয়েলিভাব উভয় অনুভুত হয়।
  • আবহাওয়া, ধুলোবালি বা কেমিক্যাল প্রোডাক্টে ত্বক দ্রুত রিঅ্যাক্ট করে র‍্যাশ,জ্বালা বা চুলকানি অনুভূত হয়।

টিস্যু পেপার দিয়ে ত্বকের ধরন বোঝার উপায়:

ত্বকের ধরন বোঝার আরো একটি উপায় আছে। সেটা হলো টিস্যু পেপার বা ব্লটিং পেপার টেস্ট। চলুন জেনে নেই,
এই টেস্টটি করার জন্য আমাদের লাগবে কিছু টিস্যু পেপার বা ব্লটিং পেপার। এই টেস্টটি সকালে করলে বেশি ভালো হয় , তাই সকালে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন। ত্বকে কোন প্রকার ক্রিম বা মশ্চারাইজার লাগানো থেকে বিরত থাকুন। প্রায় ২ ঘণ্টা কোনো ময়েশ্চারাইজার বা ক্রিম ছাড়া মুখে, টিস্যু বা ব্লটিং পেপার চেপে ধরুন। যদি পুরো টিস্যু তেলে ভিজে যায় তবে আপনার স্কিন অয়েলি স্কিন। যদি টিস্যু পেপারে একটু বা হালকা তেল লাগে বা না লাগে তবে আপনার শুষ্ক স্কিন। যদি বেশি তেল বা শুষ্কতা কোনোটিই না থাকে তবে নরমাল স্কিন।

অয়েলি স্কিনের জন্য ফেসওয়াশ:

গরমকালে অয়েলি ত্বকে অতিরিক্ত সিবাম জমে ত্বক ঘেমে একাকার হয়ে যায়, এর ফলে ত্বকে ময়লা জমে পোরস ক্লগ হয়ে ব্রণ , হোয়াইটহেডস ও ব্ল্যাকহেডসের সমস্যা বেশি হয়। তাই ‌এই ধরনের স্কিন টাইপের জন্য জেল বা ফোম ভিত্তিক- সালিসাইলিক অ্যাসিড (Salicylic Acid) বা বেনজয়েল পারঅক্সাইড (Benzoyl Peroxide) সমৃদ্ধ ফেসওয়াশ ব্যবহার করূন। এই উপাদানগুলো ত্বককে ভিতর থেকে পরিষ্কার করে, অয়েল ফ্রি রাখতে সাহায্য করে।

ড্রাই স্কিনের জন্য ফেসওয়াশ:

বছরের অন্যান্য মৌসুমের তুলনায় শীতকালে ড্রাই ত্বকে বেশি সমস্যা ফেস করতে হয়। কারন ড্রাই ত্বক ভেতর থেকে ডিহাইড্রেটেড হয়ে ময়েশ্চারের অভাব তৈরি হয়। ড্রাই ত্বকে এমন ফেসওয়াশ ব্যবহার করতে হবে যা ত্বককে পরিষ্কার করবে পাশাপাশি ময়েশ্চারাইজড রাখবে। এক্ষেত্রে হাইড্রেটিং ও ক্রিম-বেসড ফেসওয়াশ যেগুলোতে – গ্লিসারিন, হায়ালুরনিক অ্যাসিড, অ্যালোভেরা বা সিরামাইড সমৃদ্ধ আছে সেগুলো বেছে নিতে হবে।

নরমাল স্কিনের জন্য ফেসওয়াশ:

নরমাল স্কিনে প্রায় সব ধরনের ফেসওয়াশ ব্যবহার করা যায় তবুও ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা যেন ব্যালান্সড থাকে সেই বিষয় মাথায় রেখে এমন ফেসওয়াশ ব্যবহার করতে হবে যা ত্বককে হাইড্রেটেড রাখবে আবার ভালোভাবে ক্লিনও করবে। এক্ষেত্রে মাইল্ড বা জেন্টল টাইপের ফেসওয়াশ , সালফেট-ফ্রি ফর্মুলার হাইড্রেটিং উপাদান যেমন -হায়ালুরনিক অ্যাসিড, গ্লিসারিন, অ্যালোভেরা, ভিটামিন ই সমৃদ্ধ ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন।

সেনসেটিভ স্কিনের জন্য ফেসওয়াশ:

এই ধরনের স্কিনে খুব সহজেই বিরুপ রিয়েকশন দেখা দেয় যেমন- ত্বক লালচে হয়ে যায় বা জ্বালাপোড়া অনুভূত হয়। তাই সেনসিটিভ স্কিনে যেকোনো প্রোডাক্ট ব্যবহারের পূর্বে এর রিয়েকশন সম্পর্কে জেনে বুঝে ব্যবহার কন্টিনিউ করতে হয়। এই ধরনের ত্বকে অতিরিক্ত কেমিক্যালযুক্ত বা হার্শ ফেসওয়াশ এড়িয়ে চলা দরকার। সেনসেটিভ স্কিনের জন্য সালফেট-ফ্রি, ফ্র্যাগ্রেন্স-ফ্রি , হাইপোঅ্যালার্জেনিক,মাইল্ড ও সাবান-মুক্ত ফর্মুলার অ্যালোভেরা বা ক্যামোমাইল সমৃদ্ধ ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন ।

ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক ফেসওয়াশ বেছে নিলে ত্বক পরিষ্কার হওয়ার পাশাপাশি ত্বকের স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য সুন্দরভাবে বজায় থাকে। তাই প্রোডাক্ট কেনার আগে নিজের স্কিন টাইপ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে সেই অনুযায়ী ফেসওয়াশ বেছে নিন ,এতে ত্বক থাকবে সতেজ, পরিষ্কার ও সুস্থ।

One thought on “ফেসওয়াশ সঠিকভাবে বাছাই করার গাইড।

  1. Smrity says:

    Good Advice for Girls

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *