ত্বকের যত্ন

বয়স ধরে রাখার অ্যান্টি-এজিং টিপস।

বয়স ধরে রাখার অ্যান্টি-এজিং টিপস।

‘দিন যাবে বয়স বাড়বে’ এটা প্রকৃতির একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু অযত্ন,খারাপ অভ্যাস ও পরিবেশগত প্রভাবের কারণে অনেকের ত্বকে বয়সের ছাপ আগে আগে আসে। তবে সঠিক যত্ন ও হেলদি অভ্যাসের মাধ্যমে বয়সের এন্টি এজিং প্রভাব অনেকটাই কমিয়ে আনা যায়।

রিঙ্কেলস, ফাইন লাইন ও ত্বকের ঢিলাভাব একটা নির্দিষ্ট বয়সের কারনে হলেও , নিয়মিত স্কিনকেয়ার, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও ত্বকের যত্নে সঠিক পণ্য ব্যবহার করলে এগুলোকে একেবারে কমানো না গেলেও অনেকটাই ধীর করা যায়। রেগুলার হেলদি লাইফস্টাইল লিড করলে শুধু ত্বক সুস্থ্য থাকে তা নয় বরং শরীরও ভেতর থেকে ভালো থাকে।

তাই নিজেকে ইয়াংগার রাখতে কিছু কার্যকরী হেলদি অভ্যাস ও ত্বকের যত্নে সঠিক পণ্য ব্যবহার করতে হবে। চলুন রিঙ্কেলস, ফাইন লাইন কমাতে কোন পণ্য ও অভ্যাস জরুরি সে বিষয়ে জেনে নেই।

ত্বকে বয়সের ছাপ কেন আগে আসে:

  • সূর্যের অতিরিক্ত রশ্মি (UV rays) ত্বকের কোলাজেন ও ইলাস্টিন ভেঙে দেয়। ফলে ত্বকে দেখা দেয় বলিরেখা ও ফাইন লাইনস।
  • প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে না ঘুমালে ত্বক নিস্তেজ হয়ে যায় ফলে ক্লান্ত ত্বকে- চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল ও বয়সের ছাপ বাড়ে।
  • অনেক বেশি মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা করলে, এটি শরীরের হরমোনাল ভারসাম্য নষ্ট করে, যা ত্বকের অকাল বার্ধক্যের জন্য দায়ী।
  • ধূমপান ও অ্যালকোহল‌ সেবন করলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন কমে যায়,অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায় এতে ত্বক দ্রুত শুষ্ক ও নিস্তেজ হয়ে অকালে বুড়িয়ে যায়।
  • শরীরে পর্যাপ্ত পুষ্টির যোগান না থাকলে যেমন- ভিটামিন এ, সি, ই, ওমেগা-৩ ইত্যাদির অভাবে ত্বকে কোলাজেনের উৎপাদন কমে যায়।
  • নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান না করলে ত্বক ভেতর থেকে ডিহাইড্রেটেড হয়ে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়,ফলে সহজেই বলিরেখা দেখা দেয়।
  • স্কিনকেয়ারে অলসতা‌ ও নিয়মিত স্কিন কেয়ার না করার কারনে ত্বকে দ্রুত বয়সের ছাপ চলে আসে।

ত্বককে সতেজ রাখতে কিছু হেলদি অভ্যাস:

healthy skin

প্রবাদে আছে, Healthy skin is a reflection of overall wellness.” ত্বকের সতেজতাই আপনার সার্বিক স্বাস্থ্যের প্রতিফলিত রুপ। ত্বককে ভেতর থেকে সুস্থ রাখতে রেগুলার লাইফস্টাইলে নিয়মিত কিছু হেলদি অভ্যাস মেইনটেইন করতে হবে।

নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা :

শরীর ভেতর থেকে হাইড্রেটেড থাকলে ত্বক স্বাভাবিকভাবেই উজ্জ্বল ও ফ্রেশ দেখায়। এছাড়াও পানি শরীরের দূষিত টক্সিন দূর করে, শরীরকে হেলদি রাখতে সাহায্য করে। তাই দিনে অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান করুন।

হেলদি খাবার ডায়েট:

রেগুলার খাবার ডায়েটে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ওমেগা-৩ ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার রাখার চেষ্টা করুন। এগুলো ত্বককে ভেতর থেকে পুষ্টি যোগাবে ফলে ত্বক বাইরে থেকে সতেজ দেখাবে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ওমেগা-৩ ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন- ভিটামিন এ, সি, ই ও বিটা-ক্যারোটিন সমৃদ্ধ ফল ও সবজি গাজর, পালং শাক, মাছ, বাদাম, ডিম, দই ইত্যাদি।

পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান ও স্ট্রেস ফ্রি থাকুন:

নিজেকে শান্ত ও স্ট্রেস ফ্রি রাখতে – যোগব্যায়াম, মেডিটেশন বা প্রিয় কাজে ব্যস্ত রেখে মানসিক চাপ কমাতে পারেন। পাশাপাশি প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমানোর মাধ্যমেও নিজেকে রি-জেনারেট করতে পারেন। নিয়মিত ব্যায়াম করলে‌ এবং‌ ঘুমালে ত্বকের কোষ পুনর্গঠিত হয়, ডার্ক সার্কেল ও ক্লান্তভাব কমে যায় যা ত্বকের সৌন্দর্যে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

অ্যালকোহল ও ধূমপান এড়িয়ে চলুন :

এগুলো শরীর,স্বাস্থ্য ও ত্বক সবকিছুর জন্য ‌মারাত্বক ক্ষতিকর। এগুলো ত্বককে দ্রুত বুড়িয়ে দেয় এবং ভেতর থেকে শুষ্ক করে তোলে।

সঠিকভাবে স্কিনকেয়ার রুটিন মেইনটেইন করূন:

ক্লিনজিং, ময়েশ্চারাইজিং , সানস্ক্রিন ব্যবহার ও সাপ্তাহিক এক্সফোলিয়েশন ত্বককে পরিষ্কার , সতেজ ও টাইট রাখে।

ত্বককে সতেজ রাখতে,‌ সঠিক পণ্য ব্যবহার:

প্রাণবন্ত ও তারুণ্যময় ত্বক পেতে হেলদি অভ্যাস মেইনটেইন করার পাশাপাশি ত্বকের যত্নে, সঠিক স্কিনকেয়ার পণ্য ব্যবহার‌ করাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারন‌ রেগুলার লাইফ স্টাইলে আমরা অনেক পলিউশন ফেস করি সাথে আছে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির‌‌ প্রভাব ! এগুলো ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা নষ্ট করে দেয়। এক্ষেত্রে ত্বকের জন্য উপযুক্ত ক্লিনজার, সিরাম, ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে ত্বক পরিষ্কার, হাইড্রেটেড ও স্বাস্থ্যকর থাকবে।

জেন্টল ক্লিনজার:

ত্বকে জমে থাকা ময়লা ও ধুলোবালি পরিষ্কার করতে সালফেট ফ্রি ক্লিনজার ব্যবহার করুন যাতে ত্বক পরিষ্কার হবে তবে শুষ্ক হবে না। যেমন- CeraVe Hydrating Cleanser, Neutrogena Hydro Boost Cleanser Water Gel। এগুলো দিয়ে সকালে ও রাতে ঘুমানোর আগে ত্বক পরিষ্কার করূন।

সিরাম:

দিনের বেলায় ভিটামিন সি সমৃদ্ধ সিরাম ব্যবহার করূন। নিষ্প্রাণ ত্বকে ভিটামিন সি সিরাম ব্যবহার করলে ,এটা ত্বকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে – দাগ-ছোপ কমায় এবং কোলাজেন বাড়িয়ে ত্বককে সতেজ ও উজ্জ্বল করে। ভিটামিন সি সিরাম- Simple Booster Serum 10% Vitamin C+E+F , Garnier Skin Active Vitamin C 2 IN 1 Brightening Serum Cream With SPF25। রাতের স্কিনকেয়ারে ব্যবহার করূন রেটিনল বা হায়ালুরনিক এসিড সমৃদ্ধ সিরাম। ত্বককে সতেজ ও ইয়াংগার রাখতে রেটিনল খুবই ভালো। এন্টি এজিং সাইন্স যেমন- বলিরেখা, ফাইন লাইন ইত্যাদি কমিয়ে ত্বককে টানটান রাখতে রেটিনল খুবই কার্যকর। এটা রেগুলার ব্যবহার না করে সপ্তাহে ২–৩ দিন ব্যবহার করুন। রেটিনল ও হায়ালুরনিক এসিড সমৃদ্ধ সিরাম সব সময় রাতে ব্যবহার করূন ,কারন এগুলো দিনের বেলায় ব্যবহার করলে ত্বকে সান ড্যামেজ হয়ে ,ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।

রেটিনল সিরাম-CeraVe Skin Renewing Retinol Serum, La Roche-Posay Retinol B3 Serum। হায়ালুরনিক এসিড সিরাম- Cerave Hydrating Hyaluronic Acid Serum, Simple 3% Hyaluronic Acid + B5* Booster Serum।

ময়েশ্চারাইজার:

ত্বককে নরম ও হাইড্রেটেড রাখতে দিনের বেলায় লাইট ওয়েটের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করূন। যেমন- Neutrogena Bright Boost Gel Cream, Simple Kind To Skin Hydrating Light Moisturiser। রাতের বেলায় ত্বককে রিজেনারেট করতে ব্যবহার করূন‌ – Cerave PM Ultra Lightweight Facial Moisturizing Lotion , Pond’s Age Miracle Youthful Glow Night Cream।

সানস্ক্রিন:

সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি ত্বককে দ্রুত বুড়িয়ে দেয়। তাই ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির‌‌ প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে দিনের বেলায় ব্যবহার করূন SPF 30+ সানস্ক্রিন। যেমন -Aveeno Protect + Hydrate Sunscreen with SPF60 , Cerave Hydrating Mineral Sunscreen SPF30 ।

এক্সফোলিয়েশন:

ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে সপ্তাহে ১–২ বার AHA/BHA এক্সফোলিয়েন্ট ব্যবহার করুন। যেমন The Ordinary AHA 30% + BHA 2% Peeling Solution । সাথে ঘরোয়া উপকরন যেমন- মধু ও অ্যালোভেরা দিয়ে তৈরি ফেইস প্যাক বা কোলাজেন মাস্ক – Pax Moly Real Collagen Mask Pack দিয়ে সাপ্তাহিক ত্বকের যত্ন নিন।

নিয়মিত যত্ন ও স্বাস্থ্যকর লাইফ স্টাইল লিড করার মাধ্যমে ত্বক স্বাস্থ্যকর,উজ্জ্বল ও দীর্ঘদিন সতেজ থাকে। মনে রাখতে হবে, বয়সের ছাপ রোধ করা একদিনের কাজ নয় , প্রতিদিনের ছোট ছোট যত্নই আপনার ত্বককে অকাল বার্ধক্য থেকে রক্ষা করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *