বেসনের ছোয়ায় ত্বক হবে দাগহীন ও সতেজ।
কেমিক্যাল উপাদানের ভয়াবহতা সম্পর্কে সবাই কম বেশি জানি। এমন অবস্থায় ভরসা শুধু প্রাকৃতিক উপাদানের উপরই করা যায়। রূপচর্চার বিষয়ে দাদী-নানীর প্রিয় উপাদানগুলোর তালিকায় বেসন অন্যতম একটি প্রাকৃতিক উপাদান।প্রাকৃতিক উপাদানেই লুকিয়ে আছে সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর ত্বকের রহস্য। সেই প্রাচীন সৌন্দর্যচর্চার অন্যতম সঙ্গী হলো বেসন।
এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়, ব্রণ ও দাগ হ্রাস করে এবং ত্বককে রাখে কোমল ও প্রাণবন্ত। চলুন আজকের ফিচারে ত্বকের যত্নে বেসনের ব্যবহার সম্পর্কে জেনে নেই।
বেসন:
বেসন হলো একটি সুপরিচিত রান্নার উপাদান যা ছোলার ডাল থেকে তৈরি করা হয়। ছোলা (Chickpea/Gram) ভিজিয়ে এরপর শুকিয়ে ভালোভাবে গুঁড়ো করে হলুদাভ সূক্ষ্ম গুঁড়োটি তৈরি করা হয়। একে অনেকেই ছোলার আটা বা গ্রাম ফ্লাওয়ারও বলে থাকে। এটা শুধু সুস্বাদু খাবার রান্নায় ব্যবহার হয় না বরং রূপচর্চায় ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানেও ব্যবহার হয়। প্রাচীনকাল থেকেই এটি রূপচর্চায় ব্যবহার হয়ে আসছে।
ত্বকের যত্নে বেসন কিভাবে কাজ করে?
বেসনে রয়েছে ভিটামিন, খনিজ এবং প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েটিং উপাদান যা ত্বককে সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে। বেসন একাধারে ক্লিনজার , স্ক্রাব ,তেল নিয়ন্ত্রন,ট্যান রিমুভার ও উজ্জ্বলতা বাড়াতে কাজ করে।
১. বেসনে সাবানের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক নেই, এটি ত্বকে জমে থাকা ময়লা, অতিরিক্ত তেল ও ধুলো নরমভাবে পরিষ্কার করে। বেসনের দানাদার কনা ত্বকের মৃত কোষ তুলে ফেলে। এটি নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বক হয় মসৃণ এবং উজ্জ্বল।
২. যাদের ত্বক তৈলাক্ত তাদের জন্য বেসন খুবই উপকারী। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করে ত্বককে রাখে ফ্রেশ ও ব্রন মুক্ত। বেসনের সাথে হলুদ মিশিয়ে তৈরি করা ফেসপ্যাক ত্বকে নিয়মিত ব্যবহার করলে এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল কমিয়ে ব্রণ কমাতে সাহায্য করে।
৩. সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির কারণে ত্বকে ট্যান পড়ে, কালচে দাগ হয় ও পিগমেন্টেশন পড়ে এগুলো কমাতে বেসনের ফেসপ্যাক খুবই কার্যকর। বেসনের ফেসপ্যাক নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের ট্যান ,কালচে দাগ ও পিগমেন্টেশন হালকা হয়।
৪. বেসন ত্বকের লুজনেস বা ঢিলাভাব কমিয়ে ত্বককে টান টান করে। এছাড়াও এটি নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের বিভিন্ন এজিং সাইন্স যেমন – ফাইন লাইনস অনেকটাই কমে যায়।
বেসনের কিছু ফেসপ্যাক:
ত্বকের ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী বেসনের বিভিন্ন ফেসপ্যাক ঘরে বসেই বানিয়ে ফেলতে পারেন। এটা যেহেতু প্রাকৃতিক উপাদান তাই এর নিয়মিত ব্যবহার ত্বকের কোন ক্ষতি করবে না।
বেসন ও লেবুর ফেসপ্যাক –
এই ফেসপ্যাকটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করবে ও ব্রণ কমাতে সাহায্য করবে। তৈলাক্ত ও ব্রনপ্রবন ত্বকের জন্য এটা খুবই ভালো। এটা তৈরি করতে আমাদের লাগবে ২ চামচ বেসন,২-৩ ফোঁটা লেবুর রস ও ১ চামচ গোলাপ জল। এবার এই সবগুলো উপকরণ একসাথে মিশিয়ে মুখে ও গলায় লাগিয়ে ১৫ মিনিট রাখুন। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
বেসন ও দইয়ের ফেসপ্যাক –
একটি বাটিতে ২ চামচ বেসন, ১ চামচ কমলার খোসার গুঁড়ো বা পেস্ট ও ২ চামচ দই একসাথে মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। এবার এটি ভালোভাবে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখুন। ১৫-২০ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে হালকা হালকা ঘষে তুলে ফেলুন। এই ফেসপ্যাক নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকের
ডার্ক স্পট হালকা হবে এবং ত্বক হবে ফর্সা ও সতেজ।
বেসন ও হলুদের ফেসপ্যাক –
একটি পাত্রে ২ চামচ বেসন,১ চামচ দই ও আধা চামচ হলুদ গুঁড়ো একসাথে মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন। এবার এটি ত্বকের ট্যান পড়া জায়গায় লাগিয়ে ১৫–২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। বেসনের সাথে হলুদের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণাবলী একসাথে হয়ে ত্বকের রং উজ্জ্বল করে ও ট্যান রিমুভ করে।
বেসন ও মধুর ফেসপ্যাক –
এই ফেসপ্যাকটি শুষ্ক ত্বকের জন্য খুবই ভালো ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে। এই প্যাকটি নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক হবে নরম,কোমল ও উজ্জ্বল। এই প্যাকটি ঘরে থাকা কিছু সহজ উপকরণ দিয়েই তৈরি করা যায়। একটি বাটিতে ২ চামচ বেসন, ১ চামচ কাঁচা দুধ ও ১ চামচ মধু একসঙ্গে মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। এবার মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
প্রকৃতির এই সহজলভ্য ,অসাধারণ উপাদানটির রয়েছে অনেক গুণ তাই তো এর কদর রুপচর্চায় এখনো আছে। আপনার ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষায় রাসায়নিক ক্যামিক্যালের ওপর যদি ভরসা না পান তবে, ফিরে যান আপনার শেকড়ের দিকে। দাগহীন, উজ্জল ও সতেজ ত্বক পেতে ব্যবহার করুন বেসন।