সল্যুশন

মাথায় টাক পড়া রোধ করার ৭ টি প্রাকৃতিক উপায়।

মাথায় টাক পড়া রোধ করার ৭ টি প্রাকৃতিক উপায়।

চুল হচ্ছে সৌন্দর্য এবং আত্মবিশ্বাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বর্তমান সময়ে চুল পড়া ও টাক পড়া একটি কমন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পিছনে রয়েছে অনেক কারন যেমন – সময়ের সাথে বদলাতে থাকা জীবনযাপনের ধারা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশ দূষণ এবং ক্রমবর্ধমান মানসিক চাপ,হরমোনজনিত সমস্যা কিংবা চুলের যত্নে ভুল প্রোডাক্ট ব্যবহার ইত্যাদি কারণে অকালেই চুল পড়া বা টাকের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বর্তমান সময়ে বয়স্কদের পাশাপাশি অল্প বয়সী তরুণ তরুণীদের মধ্যেও এই সমস্যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে দুশ্চিন্তার কিছু নেই! কিছু নিয়ম মেনে চললে এবং সঠিক যত্ন নিলে চুল পড়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব এবং টাক পড়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়। চলুন আজকের ফিচারে আমরা জানব মাথায় টাক পড়া রোধ করার কার্যকরী ৭টি প্রাকৃতিক উপায় সম্পর্কে।

১. নারিকেল তেল:

নারিকেল তেল চুলের জন্য খুবই ভালো। অন্যান্য তেলের তুলনায় নারিকেল তেলের মলিকিউল অনেক ছোট। এটি খুব দ্রুত চুলের গভীরে গিয়ে পুষ্টি জোগায়, চুলের গোড়া মজবুত করে ও চুলকে ময়েশ্চারাইজ করে। এতে থাকা লরিক এসিড চুলের প্রোটিনকে রক্ষা করে এবং স্ক্যাল্পে জমে থাকা ম্যালাসেজিয়া নামক ছত্রাকের গ্ৰোথে বাধা দেয়, ফলে চুল পড়া অনেকটাই কমে।
সপ্তাহে দুইবার,নারিকেল তেল হালকা গরম করে স্ক্যাল্পে ও চুলের ডগায় লাগিয়ে হাতের আঙুল দিয়ে ৫-১০ মিনিট ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন। দীর্ঘ সময় মাথার স্কেল্পে নারিকেল তেল রাখলে স্কেল্পের পোরস ক্লগ হয়ে যায় তাই বেশিক্ষণ রাখার দরকার নেই ৩০ মিনিট রাখলেই হবে। এরপর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে নারিকেল তেল ব্যবহার করলে অনেক ভাল ফলাফল পাবেন। এছাড়াও আপনার চুলে যদি খুশকির সমস্যা থাকে, তবে গরম নারিকেল তেলে কয়েক ফোটা লেবুর রস মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।

২. পেঁয়াজের রস:

পেঁয়াজের রসে রয়েছে উচ্চ মাত্রার সালফার যা কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায় এবং চুলের গ্ৰোথে সাহায্য করে। এটি মাথার স্ক্যাল্পের রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে , চুলের গোড়া শক্ত করে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। চুলের যত্নে সপ্তাহে ২-৩ বার পেয়াজের রস ব্যবহার করে চুল পড়া কমানো সম্ভব। চলুন জেনে নেই কিভাবে পেঁয়াজের রস ব্যবহার করবেন-
১-২ টি পেঁয়াজ ব্লেন্ড করে একটি পাত্রে রস বের করুন।

এবার এই রস সরাসরি স্ক্যাল্পে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট ম্যাসাজ করুন।৩০-৬০ মিনিট রেখে তারপর মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

৩. অ্যালোভেরা জেল:

aloe vera

মাথার ত্বকে খুশকি ও অতিরিক্ত শুষ্কতার কারণেই মূলত চুল পড়তে থাকে। অ্যালোভেরা জেলে রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি ও অ্যান্টি ফাঙ্গাল প্রপার্টিজ যা মাথার স্ক্যাল্পের ইনফ্লামেশন, লালচে ভাব,ম্যালাসেজিয়া ফাঙ্গাস রোধ করে স্কেল্পের pH balance বজায় রাখে, প্রাকৃতিকভাবে চুলকে ময়েশ্চারাইজ করে‌ ও চুলের গ্ৰোথে সাহায্য করে। এই প্রাকৃতিক উপাদানটি ব্যবহার করে আপনিও পেতে পারেন ঝলমলে , মজবুত চুল।

চুলে ব্যবহারের জন্য কেনা অ্যালোভেরা জেলের তুলনায় তাজা অ্যালোভেরা পাতা থেকে জেল বের করে সরাসরি স্ক্যাল্পে ও চুলে ব্যবহার করলে বেশি ভালো হয়। এক্ষেত্রে অ্যালোভেরা জেলৎ মাথার স্কেল্পে ও চুলে ৩০-৪৫ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৪. আমলা/আমলকি:

ভিটামিন সি সমৃদ্ধ আমলা প্রাচীন কাল থেকেই আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। চুলের যত্নে এটি একটি অসাধারণ প্রাকৃতিক উপাদান। যা মাথার ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, চুল পড়া কমায় ও নতুন‌ চুল গজাতে সাহায্য করে। আমলা বিভিন্নভাবে চুলের যত্নে ব্যবহার করা যায়। চলুন চুলের যত্নে আমলা ব্যবহারের নিয়ম জেনে নেই।

  • একটি কড়াইয়ে পরিমাণ মতো নারিকেল তেলের সাথে আমলা সিদ্ধ করে সেগুলো একটি পাত্রে ছেকে সংরক্ষণ করতে হবে। এবার এই তেল সপ্তাহে অন্তত ২–৩ বার ব্যবহার করুন।
  • এক চামচ আমলার গুঁড়োর সাথে দুই চামচ দই ভালোভাবে মিশিয়ে মিশ্রণটি মাথার স্কেল্প ও চুলে বিলি কেটে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৫. গ্রিন টি:

গ্রিন টিতে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট – (পলিফেনল,ক্যাটেচিন), ভিটামিন (বি কমপ্লেক্স, ই), খনিজ এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান। যা চুলের ফলিকল কে সক্রিয় করে ও চুলের গ্ৰোথে সাহায্য করে।

  • একটি পাত্রে গ্রিন টি লিকারের সাথে অ্যালোভেরা জেল ও অলিভ অয়েল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এবার পেস্টটি মাথায় লাগিয়ে এক ঘন্টা রেখে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি সপ্তাহে এক বার ব্যবহার করূন।
  • একটি পাত্রে নারিকেল তেলের‌ মধ্যে গ্রিন টি ব্যাগ ডুবিয়ে রাখুন, তারপর এই তেল চুলে ম্যাসাজ করে ব্যবহার করূন।

৬. মেথি বীজ:

প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে মেথি বীজের ব্যবহার বহুকাল ধরে হয়ে আসছে। এতে রয়েছে প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেলস ও বায়োঅ্যাকটিভ যৌগ যা সরাসরি চুলের ফলিকলে কাজ করে চুলের গোড়া শক্ত করে, চুল পড়া কমায় এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।

  • একটি বাটিতে মেথি বীজ সারারাত ধরে ভিজিয়ে রেখে পেস্ট করূন। এখান থেকে উৎপন্ন লেসিথিন ৩০–৪০ মিনিট মাথায় লাগিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি চুলে ব্যবহার করলে এটি প্রাকৃতিক কন্ডিশনারের মতো কাজ করে, মাথার ত্বক আর্দ্র রাখে ও শুষ্কতা কমায়।
  • আপনার ব্যবহার করা নারিকেল তেল বা অলিভ অয়েলে মেথি বীজ ভিজিয়ে রেখে সেই তেল চুলে নিয়মিত ব্যবহার করুন।
  • মেথি দিয়ে হেয়ার মাস্ক তৈরি করেও ব্যবহার করতে পারেন এক্ষেত্রে একটি পাত্রে ভিজিয়ে রাখা মেথি পেস্ট করে কিংবা এক চামচ পরিমাণ মেথির গুরোর সাথে ২ চামচ দই মিশিয়ে একটি হেয়ার মাস্ক তৈরি করুন । এবার এটি‌ ৪০-৪৫ মিনিট মাথায় লাগিয়ে রেখে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৭. ডিম:

ডিম শুধু শরীরের জন্য ভালো তা নয় এটি নিয়মিত খাওয়ার পাশাপাশি চুলের যত্নে প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন। বহু পুষ্টিগুণে ভরপুর ডিম । ডিমে রয়েছে প্রোটিন, বায়োটিন, ভিটামিন (এ, ডি, ই, বি কমপ্লেক্স), আয়রন, জিঙ্ক এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। যা চুলের গোড়া শক্ত করে, চুল পড়া কমায় , নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে এবং চুলকে রাখে স্বাস্থ্যজ্জ্বল,মসৃণ। চুলের যত্নে ডিম সরাসরি অথবা অন্যান্য উপাদানের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। চলুন জেনে নেই।

  • একটি পাত্রে একটি ডিম ফেটিয়ে সাথে এক টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এবার এটি চুল ও মাথার ত্বকে লাগিয়ে ২০-৩০ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন ।
  • একটি ডিমের সাথে এক টেবিল চামচ ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে ২০-৩০ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি সপ্তাহে তিনবার ব্যবহার করুন‌।

ঘন, কালো,ঝলমলে মজবুত চুল পাওয়া সবারই স্বপ্ন । প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা ও ভুলভাল নকল প্রোডাক্ট ব্যবহারের কারণে দিন দিন মাথায় টাক পড়ার সমস্যা বয়স্কদের পাশাপাশি অল্প বয়সী তরূন তরুণীদের ওপরও প্রভাব পড়ছে। তাই সবারই উচিত রেগুলার লাইফ স্টাইলে পুষ্টিকর খাবার ডায়েট প্ল্যান করা , শৃংখল জীবন যাপন করা ও চুলের যত্নে ট্রাস্টেড স্কিন কেয়ার শপ থেকে আসল পণ্য পারচেজ করে ব্যবহার করা। হেয়ার এবং স্কিন কেয়ারের প্রতি যদি আপনি সচেতন হন, তবে অবশ্যই Hretus World থেকে অরিজিনাল প্রডাক্ট কালেক্ট করে ব্যবহার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *